ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চার প্রতিষ্ঠান পেল এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড

চার প্রতিষ্ঠান পেল এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড
×

রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনে গতকাল রোববার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও অতিথিদের সঙ্গে এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:১৫

‘এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ পেয়েছে চার প্রতিষ্ঠান। বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব, ধারাবাহিক অবদান এবং দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এটি দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশের নবম আয়োজন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। 

গতকাল রোববার ঢাকার হোটেল র‍্যাডিসনে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব-উর-রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কগনাসিটের পারফরম্যান্স অ্যান্ড ওয়েলবিং সাইকোলজিস্ট জেইক লাভলক।

বছরের সেরা রপ্তানিকারক হিসেবে চারটি ক্যাটেগরিতে চার প্রতিষ্ঠানকে এবার এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘তৈরি পোশাক শিল্প, যাদের বার্ষিক আয় ১০ কোটি মার্কিন ডলার ও তার বেশি’ ক্যাটেগরিতে সম্মাননা পেয়েছে ফ্ল্যামিঙ্গো ফ্যাশনস লিমিটেড। ‘তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ, যাদের বার্ষিক আয় পাঁচ কোটি ডলার বা তার বেশি’ ক্যাটেগরিতে সম্মাননা পেয়েছে এনজেড টেক্স গ্রুপ। ‘অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র ম্যানুফ্যাকচারিং, যাদের বার্ষিক আয় এক কোটি ডলার বা তার বেশি’ ক্যাটেগরিতে সম্মাননা পেয়েছে জনতা জুট মিলস লিমিটেড অ্যান্ড সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ। ‘অসনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র সার্ভিস, যাদের বার্ষিক আয় ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি’ ক্যাটেগরিতে সম্মাননা পেয়েছে উল্কসেমি প্রাইভেট লিমিটেড। 

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি বাড়াতে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা এবং উদ্ভাবনের ওপর জোর দেন তিনি।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অংশীদার। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। উত্তরণের পর দেশটি ‘বর্ধিত অগ্রাধিকার’ স্তরে যাবে, এর আওতায় পোশাকসহ ৯২ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে। 

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই। রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে উন্নতি করে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে হবে। 

অনুষ্ঠানে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, মিথ্যা মামলার হুমকির সম্মুখীন হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশাল উদ্বেগ ছিল। কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি আব্দুল হাই সরকার বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভয় ও চ্যালেঞ্জ কমবে।

আরও পড়ুন

×