স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের মতো গুণীব্যক্তির অভাব এখন
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মতো গুণীব্যক্তির বৈশিষ্ট্যর কিছুটা অভাব দেখা যাচ্ছে। আমরা তাঁর দুটি গুণ অনুসরণ করতে পারব।’ সদ্য প্রয়াত সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের কর্মজীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে এ স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিমকোর্ট বারের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আপিল বিভাগের বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মেয়ে নিলুফার আখতার, ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির এমপি ও ব্যারিস্টার নওফেল জমিরসহ বিভিন্ন আইনজীবীরা।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, ‘জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে আমার পরিচয় পারিবারিকভাবে। আমি যখন ছাত্র, তখন থেকেই তাকে চিনি। তিনি বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ ছিলেন। চমৎকার একজন ভদ্রলোক ছিলেন। স্বল্পভাষী, আস্তে কথা বলতেন এবং সবসময় অত্যন্ত পরিপাটি থাকতেন। আমি তাঁকে আইনজীবী হিসেবে দেখেছি, বিচারপতি হিসেবেও দেখার সুযোগ হয়েছে। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি হিসেবেও তিনি কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে এসেছিলেন। তখন আমি তাঁকে বলেছিলাম, সরকার সাহেব, আপনি কেন কষ্ট করে আসেন ? তিনি বলেছিলেন, কোর্টে আসতে আমার ভালো লাগে।’ জমির উদ্দিন সরকারের দুটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমার কাছে তাঁর দুটি বৈশিষ্ট্য অসাধারণ মনে হয়েছে। প্রথমটি হলো এই পেশার প্রতি তাঁর ডেডিকেশন। দ্বিতীয়টি হলো হাতে নেওয়া মামলার প্রতি তাঁর কমিটমেন্ট।’
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন। একজন মানুষ এক জীবনে এর থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন, ছয়বার এমপি হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, আবার ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য এবং আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মধ্যে সবসময় একটা আকুতি ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দীর্ঘ কর্মজীবন, আইন পেশায় অবদান, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার কথা স্মরণ করেন। পরে তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
- বিষয় :
- স্মৃতিচারণ
- জুবায়ের রহমান চৌধুরী