ফৌজদারী অপরাধের মামলার সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই: তথ্যমন্ত্রী
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ-ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০৬:৩৬ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০৬:৪৬
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদকের বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তা ফৌজদারী অপরাধের মামলার কারণে। ফৌজদারী অপরাধের মামলার সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সম্পর্ক নেই।
রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার হত্যা মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো সংবাদের জন্য মামলা হয়নি, মামলা হয়েছে ফৌজদারী অপরাধের। আদালত সেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন কি করবেন না, সেটি স্বাধীন আদালতের এখতিয়ার।
প্রথম আলোর বিষয়ে ৪৭ জন বিশিষ্টজনের বিবৃতির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে কেউ বিবৃতি দিয়ে মত প্রকাশ করতে পারেন। আমাদের দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কাগজে ৪৭ জন বিশিষ্টজন ব্যক্তি এ ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশে এই ৪৭ জন ছাড়াও হাজার হাজার বিশিষ্টজন, বুদ্ধিজীবী আছেন।
তিনি বলেন, কোনো অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য এবং মৃত্যুর পর সেটি লুকানোর অপচেষ্টা, একইসঙ্গে পোস্টমর্টেম ছাড়া দাফনের প্ররোচণা, এগুলো নিশ্চয়ই অপরাধ। এসব অভিযোগের সত্য-মিথ্যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে, আদালত তা দেখবেন। আর যে বিশিষ্টজনেরা বিবৃতি দিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনাগুলোর যাতে সঠিক বিচার হয়, তাতে যারাই দায়ী, তাদের যাতে সঠিক বিচার হয়, সেজন্যও তারা একদিন বিবৃতি দেবেন বলে আমি আশা করবো।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য বিবৃতি দিয়েছিল। যখন ফিলিস্তিনে পাখি শিকার করার মতো করে মানুষকে হত্যা করা হয়, তখন কিন্তু অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দেয় না। তাহলে সেই সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা আগে কোথায় ছিল সেটি আমি বলতে চাই না, এখন কোথায় গেছে সে নিয়ে তো অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে।
সদ্যসমাপ্ত চারদিনের ভারত সফর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ স্বর্ণযুগ অতিক্রম করছে। ভারত আমাদের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক দু'দেশের জনগণ ও অর্থনীতি জন্য সব সময় সহায়ক হয়।
মন্ত্রী বলেন, এবারের ভারত সফর ছিল মূলত ভারতে বাংলাদেশ বেতার সম্প্রচারের উদ্বোধনের জন্য। নয়াদিল্লিতে গত মঙ্গলবার ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভেদকার এবং আমি যৌথভাবে ভারতে চার ঘণ্টা সকালে দুই ঘণ্টা বিকেলে দুই ঘণ্টা বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কার্যক্রম এবং আকাশবাণীর দু’ ঘণ্টা দু’ ঘণ্টা চার ঘণ্টা বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার উদ্বোধন করি। গত সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কার্যক্রম সমগ্র ভারতে দূরদর্শনের ডিটিএইচ ফ্রি ডিশের মাধ্যমে সম্প্রচারিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে মুজিববর্ষকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে। সেই চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই বহুদূর অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু মূল চুক্তির আলোকে এটি 'ওয়ার্কিং এগ্রিমেন্ট'র প্রয়োজনীয়তা ছিল। বাংলাদেশের এফডিসি এবং ভারতের এনএফডিসি'র মধ্যে সেটিও ১৪ তারিখ স্বাক্ষর হয়েছে।
