শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড কেন নয়: হাইকোর্ট
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:০৪ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:৫৩
১৬ বছর বা তার কম বয়সী কেউ ভিকটিম হলে সে ক্ষেত্রে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রণয়ন করায় সরকারর নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি সারাদেশে ধর্ষণ প্রতিরোধে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই কমিটিতে রিট মামলার বিবাদীদের প্রতিনিধি, বিচারক, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা থাকবেন।
জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেন। গত সপ্তাহে ধর্ষণরোধে ভিকটিমকে বিশেষায়িত সেবা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ব্যারিস্টার এম এস কাউসার হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করেন।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধর্ষণের মূল কারণ নিরূপণ করে এ রোমহর্ষক ঘটনা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তার একটি সুপারিশমালা তৈরি করে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাবেয়া ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমকালকে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের শাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় কারও মৃত্যু ঘটলে সে ক্ষেত্রে আইনে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবনের সাজার প্রচলিত বিধান বাতিল করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। শুনানিতে ধর্ষণের শাস্তি ক্রসফায়ারে দেওয়া নিয়ে সংসদে যে আলোচনা হয়েছে, তা সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন হাইকোর্ট।
এছাড়া ভিকটিমদের জন্য সাক্ষী সুরক্ষা আইন কেন প্রণয়ন করা হবে না, ধর্ষকদের ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য কেন ডিএনএ ডাটাবেজ করা হবে না, প্রতিটি জেলায় ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে ভিকটিমদের সুরক্ষায় কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, ভিকটিমদের ছবি গণমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে কেন সতর্কতা অবলম্বন করা হবে না, সব ধরনের ধর্ষণের অপরাধের জন্য কেন পৃথক একটি আদালত গঠন করা হবে না এবং সে আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
