ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

শ্যামলীতে হাসপাতালের গ্যাস লিকেজে শিশুর মৃত্যু, কর্তৃপক্ষকে তলব

শ্যামলীতে হাসপাতালের গ্যাস লিকেজে শিশুর মৃত্যু, কর্তৃপক্ষকে তলব
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৯:২৬ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ২০:৩২

রাজধানীর শ্যামলীতে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় শ্যামলী বেবী কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় আরও পাঁচ শিশুকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার বিকেলে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো রোগী নেই। নিহত শিশুর নাম ফারিজ আহমেদ। তার বয়স সাড়ে চার মাস। সে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. ফারুক আহমেদের ছেলে। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিল সে।

স্বজনরা জানান, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ফারিজ ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছিল। তবে অক্সিজেন লাইনে লিকেজের ঘটনার পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা ও দাফনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে অক্সিজেন লাইনের লিকেজের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০ শয্যার হাসপাতালটি একটি আবদ্ধ ফ্লোরে পরিচালিত হচ্ছে। একই ভবনের ভেতরে ‘হাইকেয়ার’ নামে আরেকটি হাসপাতাল রয়েছে। এনআইসিইউর পাশে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার একটি ছোট কক্ষ রয়েছে। সেখানে ভেতরে ও বাইরে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা দেখা গেছে।

ঘটনার সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিলিং ইনচার্জ মো. তানভীর। তিনি বলেন, অক্সিজেন লাইনের ত্রুটির কারণে লিকেজ হয়েছে। তবে এটি বিস্ফোরণের ঘটনা নয়। তাঁর ভাষ্য, বিস্ফোরণ ঘটলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতো। 

তানভীর জানান, গ্যাস লিকেজের পর হাসপাতালে থাকা ছয় শিশুকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সরিয়ে নেওয়ার আগেই এক শিশুর মৃত্যু হয়। অন্যদের একই ভবনের আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক শিশুর মা বলেন, এনআইসিইউর সামনে অক্সিজেন লাইনে জোরে শব্দ হয়। কিছুক্ষণ পর একটি শিশুর মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, সিলিন্ডারের পাশে থাকা এক যুবকও আহত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার কর্মকর্তা ডা. আহসান বলেন, হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো রোগী নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×