এভাবে একটা সম্মানজনক পদ ছিনিয়ে নেওয়ার নজির নেই
ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ (ফাইল ফটো)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ২২:৩৬
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে আজীবন নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ। ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ বাতিল এবং উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটা চিঠি পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেটা করেছে, অন্যায় করেছে। আমার ওপর অবিচার করেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এভাবে একটা সম্মানজনক পদ ছিনিয়ে নেওয়ার নজির নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৫০ বছর যাবত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। আমার ছাত্ররা স্বনামখ্যাত অধ্যাপক। জীবনের শেষ সময়ে এসে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। কারা, কী কারণে (এটি) করছে, তারাই জানে।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে তিনি ‘সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছেন।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধ্যাপক হিসেবে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়। ওই পদের বিপরীতে তার উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় আলোচ্যসূচির বহির্ভূতভাবে একজন সদস্যের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ অধ্যাদেশ’ সংশোধন করা হয়েছিল। একই সভায় পুনরায় অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ছিল বিধিবহির্ভূত। তাই নিয়োগ অনুমোদন করা যায় না।
এ ব্যাপারে ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, “৫০ বছরের চিকিৎসা জীবনে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে এসেছি। কর্মজীবনে ১৪ থেকে ১৫টি আন্তর্জাতিক ও একাডেমিক পুরস্কারের পাশাপাশি ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এবং রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ পেয়েছি। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃত চিকিৎসাশাস্ত্রের আকর গ্রন্থ ‘ডেভিডসন’ এবং ‘কুমার অ্যান্ড ক্লার্ক’-এর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত ছিলাম। বিশ্ব বা বাংলাদেশের ইতিহাসে আজীবন সম্মানসূচক নিয়োগ বাতিলের এমন নজির আর নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আচরণ আমাকে সামাজিকভাবে চরমভাবে অপমানিত করেছে।”
