ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ফুলবাড়ীতে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ৯ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১০৫ জন

ফুলবাড়ীতে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ৯ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১০৫ জন
×

ছবি: সমকাল

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ২৩:২০

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ১৭ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত মাত্র ৯ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৩১ জন রোগী। এর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৫ জন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭ জুন ১৫ জন, ১৮ জুন ১১ জন, ১৯ জুন ৯ জন, ২০ জুন ১৪ জন, ২১ জুন ৭ জন, ২২ জুন ৭ জন, ২৩ জুন ১০ জন, ২৪ জুন ১৫ জন এবং ২৫ জুন ১৭ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জুন মাসের শুরু থেকেই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়লেও চিকিৎসক ও নার্সরা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

আলাদিপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।’ মাদিলাহাট এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘জুন মাসের শুরু থেকেই পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গুরুতর রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।’

বাসুদেবপুর গ্রামের এক শিশুর মা বলেন, ‘বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সরা যথাসাধ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আন্তরিকতায় আমরা সন্তুষ্ট।’ একই গ্রামের শিক্ষক বাদশা হোসেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বুধবার বাড়ি ফিরেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঠান্ডা-গরম এবং বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। তবে অধিকাংশ রোগী দু-একদিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮০ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকছেন, যা নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। তারপরও সীমিত জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।’ 

আরও পড়ুন

×