ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে

স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে
×

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ৫০ বছর এবং অ্যালামনাইয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের শেষ দিনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদসহ অতিথিরা-সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:৩৫ | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:৩৯

মানুষ মাত্রই স্মৃতিকাতর। তার এই ছোট্ট জীবনে কত স্মৃতিই না জমে। তবে স্মৃতির পাতায় যে অংশটি সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে থাকে, তা হলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রঙিন দিনগুলো। স্কুল-কলেজের বাঁধাধরা নিয়মের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে এসেই যেন প্রথম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। এখান থেকেই তারা ভবিষ্যৎ জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে দেশের সেবায় ব্রতী হন। 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সময়টুকু কাটে স্বপ্নের মতো। ক্লাস শেষে আড্ডা, বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাফেটারিয়ায় চা খাওয়া, হলরুমে জম্পেশ গল্পবাজি ও খুনসুটি, বিভিন্ন উৎসবে একসঙ্গে ঘোরা, হুটহাট কোনো স্থান থেকে ঘুরে আসা- এসব স্মৃতি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষকে স্মৃতিকাতর করে। তখন বারবার মনে পড়ে সেই স্মৃতিময় প্রিয়প্রাঙ্গণের কথা। যে কোনো উপলক্ষে প্রিয়প্রাঙ্গণে আসার সুযোগ পেলে কেউই সহজে তা ছাড়তে চান না। ঠিক এমনটাই হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। 

উপলক্ষটা ছিল বিভাগের ৫০ বছর এবং অ্যালামনাইয়ের ২৫ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভাগটি। শনিবার ছিল এই আয়োজনের শেষ দিন। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল স্মৃতিচারণমূলক আড্ডা, খাওয়াদাওয়া, বিভিন্ন ধরনের গেম এবং শেষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শেষ দিনের আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, সরকারের ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ. কে. আজাদ। অ্যালামনাইয়ের সভাপতি স্বদেশ রঞ্জন সাহার সভাপতিত্বে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিয়াজুর রহমান, অ্যালামনাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. মুঈনুদ্দিন খান অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যালামনাইয়ের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ।

ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় গবেষণা কম। অথচ অন্যান্য দেশে গবেষণার প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে যে দেশের গবেষণা বেশি, সেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য অ্যাকাউন্ট্যান্টদের গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। আমরা কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারাতে চাই না। এই বিভাগের প্রাক্তন সচ্ছল শিক্ষার্থীরা এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন বলে আশা করি।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, এই বিভাগের পাঠ্যসূচিতে তত্ত্বের পাশাপাশি আরও বেশি পেশাদার কোর্স অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কারণ দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে। ফলে অনেক বেশি অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। 

এ. কে. আজাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৯৯ বছর পূর্ণ করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর অনেক শিক্ষার্থী এসেছেন, অনেকে চলেও গেছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমরা কী করেছি, সেটা ভেবে দেখতে হবে। কেননা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এখানে আমাদের এত বেশি খরচ নেই, নামমাত্র কিছু খরচ। বাকি টাকাটা আসে এ দেশের মেহনতি মানুষের করের টাকা থেকে। এ জন্য তাদের প্রতি ও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ে শিক্ষাজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগে। এ জন্য অ্যালামনাইদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা অন্তত একজন করে শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বিভাগের ৫০ বছর ও অ্যালামনাইয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রদর্শন করা হয় দুটি প্রামাণ্যচিত্র।

আরও পড়ুন

×