তিন গবেষকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা নেন ঢাবির ভাইরাল গানের শিক্ষক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ২৩:০৩
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি তিনজন এমফিল গবেষকের কাছ থেকে সিনপসিস কম্পোজের জন্য টাইপিস্টের পারিশ্রমিক বাবদ ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একই সঙ্গে এক পিএইচডি গবেষকের কাছে তত্ত্বাবধায়কের পারিশ্রমিক বাবদ অর্থ দাবি করেছেন।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ঘটনাটি অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তথ্যানুন্ধান কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সভায় অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলা বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলা বিভাগের পিএইচডি গবেষক সুশান্ত কুমার সরকার এবং এমফিল গবেষক মো. আব্বাস আলী, রওশন জাহান মৌসুমী ও নুসরাত জাহান শুচি অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট উপাচার্য একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন।
তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব পিএইচডি গবেষক সুশান্ত কুমার সরকারের কাছে তত্ত্বাবধায়কের পারিশ্রমিক বাবদ অর্থ দাবি করেন। পাশাপাশি এমফিল গবেষক মো. আব্বাস আলী, রওশন জাহান মৌসুমী ও নুসরাত জাহান শুচির কাছ থেকে সিনপসিস কম্পোজের জন্য টাইপিস্টের পারিশ্রমিক হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষকদের তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনের জন্য বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে প্রয়োজনীয় ফরমে স্বাক্ষরের অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট চার গবেষকের গবেষণাকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে এবং তারা এ অ্যাকাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট গবেষকদের নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের সুপারিশ করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি। একই সঙ্গে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে সিন্ডিকেট তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করে। পাশাপাশি নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের বিষয়ে বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অভিযোগগুলোর অধিকতর তদন্তের জন্য ‘দ্য রুলস ফর দ্য প্রিভেনশন অব প্লেজিয়ারিজম’-এর ৯এ ধারা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষমতা উপাচার্যকে দেওয়া হয়।
এদিকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তার লেখা বই কেনার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের বাধ্য করতেন। অন্যথায় পরীক্ষা নম্বর কম দেওয়ার ঘটনা ঘটতো।
এদিকে, সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবকে তার চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, আর্থিক অনিয়ম ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে সিন্ডিকেট। তিনি আরও জানান, অভিযোগগুলো তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক তাশরিক হাবিবকে ফোন করা হলে তিনি উত্তর দেননি।
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
