ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

চীন থেকে ফিরতে চান আরও ১৭১ বাংলাদেশি

চীন থেকে ফিরতে চান আরও ১৭১ বাংলাদেশি
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:৪৩ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:৫৫

চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে আরও ১৭১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে তাদের আনতে সমস্যা হচ্ছে। কারণ এর আগে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে যে ফ্লাইট আনা হয়েছিল সেটির পাইলট ও ক্রুদের অন্য দেশে ঢুকতে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে তারা আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছেন না। এ কারণে নতুন করে আসতে চাওয়া বাংলাদেশিদের চীনের কোনো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়া করে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। 

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠক শেষে দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

 বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের অ্যাম্বাসিকে বলা হচ্ছে- তোমরা যোগাযোগ কর, দেখ কী হয়। প্লেন তো পাঠানো যাচ্ছে না, কারণ আমাদের প্লেন পাঠালে যে ক্রুরা যাবে, তাদের বাইরে ভিসা দেয় না। অলরেডি সিঙ্গাপুর না করে দিয়েছে। সেজন্য আলোচনা হয়েছে, দেখতে হবে চার্টার করা প্লেন যদি পাওয়া যায়- দ্যাট উইল বি দ্য বেস্ট অপশন। চায়নিজ চার্টার করা প্লেন যদি আনা যায় সেটাকে ফার্স্ট প্রেফারেন্স দিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০/২৫ জনকে নিয়ে করোনাভাইরাস বিষয়ে আলোচনা করেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে- যেভাবেই হোক, এ ভাইরাস আমাদের দেশে ঢোকা প্রতিরোধ করতে হবে। চীন থেকে যারা ফিরবেন, তাদের অবশ্যই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। কারণ আমরা এটা নিয়ে তো রিস্ক নেব না। অলরেডি যে ৩১২ জন এসেছেন (চীনের উহান থেকে) তাদেরকে হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া সবকিছু দেওয়া হচ্ছে। 

চীন থেকে নতুন যারা বাংলাদেশে ফিরবেন তাদেরও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে বলে এ সময় জানানো হয়।

চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে বিমান যাতায়াত বন্ধ রাখা হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এখন প্রতিদিন চীনে ৪টি ফ্লাইট যাচ্ছে। প্রতি ফ্লাইটে ১০ থেকে ১২ জনের যাত্রী হচ্ছে না। ধারণা করছি, এয়ারলাইন্সগুলো নিজেরাই ফ্লাইট বন্ধ করে দেবে।

গত শনিবার 'আকাশ প্রদীপ' নামের বিমানের একটি উড়োজাহাজে করে উহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের কারও মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া না গেলেও সাবধানতার অংশ হিসেবে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। 

এ ৩১২ জনকে আনতে ওই উড়োজাহাজে চারজন চিকিৎসক, চারজন ককপিট ক্রু ও ১১ জন কেবিন ক্রুকে পাঠানো হয়েছিল। সংক্রমণ এড়াতে তাদের সঙ্গে মাস্ক, সানিটাইজার, ডিসপোজেবল গাউনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল। চীন থেকে ফেরার পর উড়োজাহাজটিকে ১২ ঘণ্টা ধরে স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×