মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তহবিল সংগ্রহে সঙ্গীত উৎসব
আযম খানের জীবনীভিত্তিক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৬:৫০ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০৭:১১
মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে জাগরণী সঙ্গীত। যার বাণী ও সুর সাহসী করে তুলেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের। স্বাধীন বাংলাদেশের লড়াইকে এগিয়ে নিতে তখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের পাশাপাশি তৎকালীন প্রখ্যাত ব্যান্ডশিল্পী বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, জর্জ হ্যারিসন, রবিশঙ্করসহ আরও অনেকেই রাখেন অনন্য ভূমিকা। সেই অনুপ্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে এবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী তহবিল সংগ্রহে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে 'স্বাধীনতা সঙ্গীত উৎসব।'
ব্যান্ড দল 'মাকসুদ ও ঢাকা'-র উদ্যোগে আগামী ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
দেশের ২০টি ব্যান্ড দল এতে অংশ নেবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত 'মুজিববর্ষ' উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে এই উৎসব। এই সঙ্গীত উৎসব থেকে পাওয়া অর্থ জমা হবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।
তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় থাকবে বিকাশ।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক,'মাকসুদ ও ঢাকা' ব্যান্ডের প্রধান মাকসুদুল হক, ব্যাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেজের দলনেতা শেখ মনিরুল আলম টিপু, অনলাইনভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদানভিত্তিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মীর নওবত আলী।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা পপগুরু আযম খানের (মাহবুবুল হক খান) জীবনীভিত্তিক গ্রন্থ 'বাংলাদেশের রকগাথা' শীর্ষক মাকসুদ ও ঢাকা ব্যান্ডের প্রধান মাকসুদুল হক রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলীও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা। বইটি এবারের বইমেলা ও স্বাধীনতা সঙ্গীত উৎসবে পাওয়া যাবে। বই বিক্রি থেকে পাওয়া লেখক সন্মানী জাদুঘরের তহবিলে জমা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মফিদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সঙ্গীত যেমন প্রেরণা জুগিয়েছে, ঠিক তেমনি সঙ্গীতও প্রেরণা জুগিয়েছে। এই অনুপ্রেরণা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে স্বাধীনতা সঙ্গীত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে পাওয়া অর্থ জাদুঘরের স্থায়ী তহবিলে জমা হবে। সবার সহায়তায় জাদুঘরের কাঠামো হয়েছে। কিন্ত স্থায়ী তহবিল গঠনও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি এক্ষেত্রেও সবার সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
মাকসুদুল হক বলেন, জাদুঘরের তহবিল সংগ্রহে সঙ্গীত উৎসবে সম্পৃক্ত হতে পেরে অংশগ্রহণকারী সবগুলো দলই খুবই আনন্দিত। আরও কয়েকটি ব্যান্ড দল ইতোমধ্যে উৎসবে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আশা করছি, তাদের অংশগ্রহণে প্রতিবছরই এ ধরনের সঙ্গীত উৎসব আয়োজন করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাদুঘরের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন মাকসুদ ও ঢাকা, বাংলা ফাইভ ব্যান্ড, অবন্তী সিঁথি, নোভা, মাদল, গানকবি, ওয়ারফেজ, আভাস, রেনেসাঁ, নেমেসিস, মেঘদল, মাটি, অবসিকউর, স্যাক্রামেন্ট, গাছ, চিৎকার, সভ্যতা, সরল, বাউল এপপ্রেস এবং সহজিয়া।
আগামী ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত মঞ্চে এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মূল মিলনায়তনে সঙ্গীত পরিবেশিত হবে। উন্মুক্ত মঞ্চের প্রবেশ মূল্য ৩০০ টাকা ও মূল মিলনায়তনে প্রবেশ মূল্য ১০০০ টাকা। বিকাশ অ্যাপের 'ফ্রিডম মিউজিক ফেস্ট' লোগোতে ক্লিক করে খুব সহজেই টিকিট কেনা যাবে।
https://www.facebook.com/lwmfreedommusicfest/ ফেসবুক পেজ থেকে কনসার্টের সময়সূচি এবং শিল্পীর বিস্তরিত তালিকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জাদুঘরে স্থাপিত বিকাশের বুথেও অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। উৎসবের দিনেও টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তহবিলে সারা বছরেই বিকাশের মাধ্যমে খুব সহজেই অনুদান দেওয়া যায়।
https://www.liberationwarmuseumbd.org/bkash/application/donation লিংকে ক্লিক করেই যে কেউ সহজেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তহবিলে দান করতে পারেন।
