বন্যা মোকাবিলায় প্রাকৃতিক জলাশয়-জলাভূমি রক্ষা করতে হবে: আইপিডি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২২ | ০৮:০৯ | আপডেট: ২০ জুন ২০২২ | ০৮:০৯
বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বাঁচতে হাওড়-বাঁওড়সহ সকল প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষার দাবি জানিয়েছে প্রকৌশলী-পরিকল্পনাবিদ পেশাজীবীদের সংগঠন ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
বাংলাদেশ মৌসুমী বায়ুর অঞ্চল হওয়াতে বন্যার সাথে বসবাস করার জন্য যে ধরনের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবার কথা, সেই মূলনীতি থেকে সরে গিয়ে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ও জলধারণ এলাকা প্রতিনিয়ত নষ্ট করা হচ্ছে। এই চিত্র শুধু ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা এমনকি শস্যভান্ডার ও মৎস্যের উৎস উত্তরাঞ্চলীয় হাওড় এলাকাতেও প্রাকৃতিক জলাভূমি, হাওড়-বাঁওড়-খাল-বিল নির্বিচারে ধ্বংস করে সড়ক-অবকাঠামো ও বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাতে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ বা যেকোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে পরিবেশগত সমীক্ষা (এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট) ও পরিকল্পনাগত প্রভাব বিশ্লেষণ প্রতিবেদন (প্ল্যানিং ইমপ্যাক্ট এনালাইসিস রিপোর্ট, যার মধ্যে ভৌত পরিকল্পনাগত-সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্নেষণ অন্তর্ভুক্ত) করার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রহণের যে আদর্শগত পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী অনুসরণ করা হয়, তা না করার বড় দায় আছে।
এমনকি প্রায়ই দেখা যায়, কোনো কোনো প্রকল্পে এ ধরনের সমীক্ষা করা হলেও সেটা শুধু প্রকল্পকে বৈধতা দেয়া ও পদ্ধতিগত অনুশাসন নিশ্চিত করার জন্যই করা হয়। ফলে প্রকৃত অর্থেই পরিবেশ-প্রতিবেশগত এবং জীবন-জীবিকার উপর এ ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা ও তদানুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করার ফলে ভবিষ্যতের জন্য আসন্ন বিপদের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়, যার শিকার হয় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতি।
এর পাশাপাশি নগর এলাকাতে প্রাকৃতিক খাল, জলাধার ক্রমশ ধ্বংস করা এবং যথাযথ আইনের শাসনের অভাবে সারা দেশেই নির্বিচারে নদী দখল, জলাশয়-জলাভূমি ভরাট চলছে। একই সাথে নদীগুলোর নাব্যতা সংকটের কারণে নদীগুলোর পানি ধারণক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমছে। নদীগুলোতে ড্রেজিং প্রকল্পে সরকারি ব্যয়কৃত অর্থ প্রকৃত অর্থে নদীগুলোর নাব্যতো বাড়াতে কতটুকু ভূমিকা রাখছে তার নির্মোহ কোনো বিশ্লেষণ ও তদারকিও নেই। কেবলমাত্র যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ এবং নির্বিচার নদীশাসন ও কৃত্রিম ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্যা-জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়।
আমাদেরকে বাঁচতে হলে সামনের দিনগুলোতে হাওড়-বাঁওড়, নদী-খাল, জলাশয়-জলাভূমি প্রভৃতি প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ করতেই হবে। টেকসই উন্নয়নে এর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে আইপিডি।
উচ্চ আদালত ঘোষিত এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জীবন্ত সত্ত্বাসমূহের দখল-ভরাটের সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে যথাযথ প্রতিবিধান করে এগুলো পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভূমির শ্রেণীবিন্যাস অনুযায়ী পরিবেশ-প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসমূহে যেকোনো ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প ও উদ্যোগ নেবার আগে পরিবেশগত সমীক্ষা ও পরিকল্পনাগত প্রভাব বিশ্লেষণ প্রতিবেদন তৈরি করা প্রয়োজন।
এর অন্যথা হলে সামনের দিনগুলোতে বন্যা দুর্যোগের ভয়াবহতা আরো বাড়তে পারে, যা মোকাবেলা করা রাষ্ট্র-সরকার ও সাধারণ জনগণের জন্য কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
