ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আইনের শাসন দুর্বল হলে দুর্নীতি দমন সহজ নয়

আইনের শাসন দুর্বল হলে দুর্নীতি দমন সহজ নয়
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২২ | ০০:৫০

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আইনের শাসন দুর্বল হলে, দুর্নীতি দমন সহজ নয়। আইনের শাসন না থাকা মানে হচ্ছে জনগণের কল্যাণ না চাওয়া।

ক্ষমতা, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কৌশলবিষয়ক একক বক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন এসওএএস, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মুশতাক এইচ খান। অধ্যাপনার বাইরে তিনি অ্যান্টিকরাপশন এভিডেন্স (এসিই) রিসার্চ কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল বুধবার কাজী আলী তৌফিক স্মৃতি এ বক্তৃতার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-বিআইডিএস। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন।

অধ্যাপক মুশতাক এইচ খান বলেন, 'বাংলাদেশের কথা বলছি না, দুর্নীতি দমন মানেই যেন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা। এরকমই সাধারণ প্রবণতা। তিনি বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ দুর্নীতি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তথ্য গোপন করে, তবে তা জাতির সঙ্গে প্রতারণা।

সভাপতির বক্তৃতায় বিনায়ক সেন বলেন, গবেষণা কাজে প্রয়োজনীয় তথ্য সব সময় সহজলভ্য নয়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সামগ্রিক সুশাসনের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি অবাধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তথ্য সহজলভ্য হলে জবাবদিহির কাঠামো শক্তিশালী হবে। এতে দুর্নীতি কমতে পারে।

দুর্নীতি এবং আইনের শাসন প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুশতাক এইচ খান আরও বলেন, আইনের শাসন এবং সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কারণেই উন্নত দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত। এসব দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ ৯৫ শতাংশ আইন মেনে চলেন।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্রয় পর্যায়ে আঁতাতের উদহারণ দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ক্রয় চুক্তিতে দুর্বলতা থাকে। রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই- এরকম উদ্যোক্তারা খুব কমই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছে। এ কারণে বেসরকারি খাতে উদ্যোক্তাদের উচ্চ ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। সবাই অংশ নিতে পারলে আরও প্রতিযোগী দরে বিদ্যুৎ কেনা যেত।

দুর্নীতি দমনে করণীয় প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুশতাক বলেন, দুর্নীতি কমাতে আরও নজরদারির প্রয়োজন। বর্তমানে যে ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা আছে, সেগুলোকে আরও জোরদার করা যেতে পারে। দুর্নীতি প্রতিরোধে যারা সৎভাবে কাজ করছে, তাদের স্বীকৃতি এবং উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আইন ও নীতিমালা আরও সহজ এবং সহায়ক হওয়া প্রয়োজন। এতে ব্যবসার পরিবেশও উন্নত হবে। দেশি-বিদেশি উদোক্তাদেরও আস্থা বাড়বে।

আরও পড়ুন

×