ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

২১ নারী অধিকারকর্মীর বিবৃতি

ইডেন শিক্ষার্থীদের যৌন শোষণের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার দাবি

ইডেন শিক্ষার্থীদের যৌন শোষণের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার দাবি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২২ | ০৯:৪৬ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২২ | ০৯:৪৬

ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের যৌন শোষণের অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন ২১ জন নারী অধিকারকর্মী।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তাঁরা এ দাবি জানান।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে শাসক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অলিখিত চুক্তি গড়ে উঠতে দেখেছি আমরা। সেই অনুযায়ী, শাসক দলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতানেত্রী, কর্মীরা শারীরিক ও মতাদর্শিক লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে। প্রতিদানে ছাত্রনেতারা সিট বাণিজ্য থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির মাধ্যমে ছাত্রাবস্থায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবে, যা বৈধ উপায়ে কোনো মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর পক্ষে সারাজীবনেও অর্জন করা সম্ভব নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দলকানা কর্ণধাররা, এসব না বোঝার ভান করে থাকবেন, বিনিময়ে তাঁদের নিজেদের 'অধ্যক্ষ', 'ভিসি' পদ সুরক্ষিত থাকবে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সিট বাণিজ্যের সন্ত্রাস ও অপরাধের রাজত্বে ইডেন কলেজের ছাত্রলীগ নেত্রীরা ছাত্রীদের যৌন শোষণের মাধ্যমে নিজের পকেট ও নেতৃত্বের প্রোফাইল ভারি করার ভয়াবহ মাত্রা যোগ করেছেন।

নারী অধিকারকর্মীরা বিবৃতিতে বলেছেন. ইডেনে প্রবর্তিত ব্যবস্থার দুটি দিক আছে, যেগুলো সমানভাবে ভয়াবহ। ছাত্র রাজনীতিতে ইচ্ছুক মেয়েদের মধ্যে ধারণা বপন করা হয়েছে, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়তে নেতাদের সঙ্গে রাত কাটাতে হবে। দ্বিতীয় দিকটি হলো, ছাত্রলীগ নেত্রীদের পরিচালিত যৌন অপরাধ চক্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশ না মানলে নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হবে। মারধর, বিবস্ত্র করে ছবি তুলে 'ভাইরাল' করার হুমকি, 'শিবির' তকমা দিয়ে ছাত্রীনিবাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। আধিপত্য বিস্তারে দলীয় কোন্দলের কারণে ফাঁস হওয়া এই কাহিনিগুলো নারী আন্দোলন কর্মী হিসেবে আমাদের সংক্ষুব্ধ করেছে। কারণ এই ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেছে নারী নেতৃত্বাধীন শাসনামলে। নারী শিক্ষার অগ্রদূত প্রতিষ্ঠান ইডেন কলেজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লেখাপড়া করেছেন। ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন। লক্ষণীয়, সরকার এখনও ইডেনের বিষয়ে নীরব। শিক্ষামন্ত্রী একজন নারী হয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এমন কিছু দেখিনি। পদত্যাগ করতে চাওয়া তো দূরের কথা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইডেন শিক্ষার্থীদের যৌন শোষণের সত্য-মিথ্যা উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হতে হবে। একে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে না দেখিয়ে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে বিচার হতে হবে। যৌন শোষণ দণ্ডনীয় অপরাধ। ইডেনে কলেজে যা যা ঘটেছে, তা সত্য প্রমাণিত হলে ১১ নম্বর ধারার অধীনে কঠিনভাবে শাস্তিযোগ্য।

বিবৃতিদাতারা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, আদিবাসী অধিকার সুরক্ষাকর্মী রানী য়েন য়েন, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক নাজনীন শিফা, লেখক পারসা সানজানা সাজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজলী শেহরীন ইসলাম, থাইল্যান্ডের মাহিডল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোজিনা বেগম, নৃবিজ্ঞানী ড. নাসরিন খন্দকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সামিনা লুৎফা, গবেষক দিলশানা পারুল, চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. নাসরিন সিরাজ, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, শিক্ষক শ্যামলী শীল, নোয়াখালী নারী অধিকারের সভানেত্রী লায়লা পারভীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক শিল্পী বড়ূয়া, আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া, লেখক সায়েমা খাতুন, যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. সাদাফ নূর, কানাডার ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হানা শামস আহমেদ, নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ এবং সাংবাদিক ড. সায়দিয়া গুলরুখ।

আরও পড়ুন

×