ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ক্যাডার-ননক্যাডার দ্বন্দ্বে ৪৯ মামলা

ক্যাডার-ননক্যাডার দ্বন্দ্বে ৪৯ মামলা
×

অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২২ | ১৩:২৮

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) দীর্ঘদিন ধরে চলছে ক্যাডার-ননক্যাডার দ্বন্দ্ব। ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, চাকরি রাজস্ব খাতে যাওয়ার সময় থেকেই জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে। ননক্যাডার বা প্রকল্প থেকে নিয়মিত হওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব খাতভুক্ত কিংবা চাকরি নিয়মিত হওয়ার সঙ্গে জ্যেষ্ঠতার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকল্পে কাজ শুরুর সময় থেকে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণই যৌক্তিক। এ নিয়ে চলছে মামলা-পাল্টা মামলা। মামলা-মোকদ্দমার ঘটনায় পদোন্নতিও আটকে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত হওয়া ৪৯ মামলার কারণে আটকে আছে ৪৮৩ সহকারী প্রকৌশলীর পদোন্নতি।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এলজিইডি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি চক্র ফায়দা নিতে বছরের বছর তাঁদের এসব সমস্যা জিইয়ে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রীকে লিখিতভাবে একাধিকবার জানালেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এ নিয়ে বঞ্চিতদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। এক ব্যাচের সঙ্গে আরেক ব্যাচের চলছে মুখ কালাকালি। সামনে পড়লে কথাও বলছেন না কেউ কেউ। এর প্রভাব পড়ছে সারাদেশের সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন কার্যক্রমে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এলজিইডির পক্ষ থেকে কখনোই জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করা হয়নি। যাঁরা মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির শীর্ষ কর্তাদের খুশি করতে পারেন, তাঁরাই কালেভদ্রে পদোন্নতি পান। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প থেকে নিয়মিত হওয়া প্রকৌশলীরা বরাবরই এগিয়ে থাকেন। কারণ, তাঁদের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণের একটা অনিশ্চয়তা থাকে। ফলে চাকরি পেয়েই স্থায়ীকরণের তদবিরে নামেন তাঁরা। তবে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের চাকরির নিশ্চয়তা থাকায় তাঁরা পদোন্নতি নিয়ে ততটা বিচলিত নন। ফলে বরাবরই বঞ্চিতের তালিকায় থেকে যাচ্ছেন ক্যাডার কর্মকর্তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, এলজিইডিতে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে স্থায়ীভাবে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে অস্থায়ী ভিত্তিতে সহকারী প্রকৌশলী পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের সবাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। পিএসসির মাধ্যমে যাঁরা নিয়োগ পান, তাঁদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের বিধান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে। শুরু থেকেই তাঁরা রাজস্ব খাতভুক্ত হয়ে নিয়মিত জনবল হিসেবে গণ্য হন। পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদেরও অনেককে রাজস্ব খাতভুক্ত করা হয়। অথচ পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারাই হচ্ছেন এই বঞ্চনার শিকার।

এ ব্যাপারে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) মোশাররফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে জ্যেষ্ঠতার সঠিক তালিকা করা হয়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পে দীর্ঘদিন কাজ করার পর একজনের চাকরি নিয়মিত হচ্ছে। অথচ পিএসসির মাধ্যমে এসেই একজন তাঁদের সিনিয়র হয়ে যাচ্ছেন। তখন প্রকল্প থেকে নিয়মিত হওয়া ব্যক্তি তাঁর চেয়ে ১০ বছরের জুনিয়র একজনকে মানতে চাইছেন না। আবার আইনে আছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করার।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে পিএসসির মাধ্যমে দুই দফায় নিয়োগ পাওয়া ৭৩ ও ৩৮ জন, ২০০৬ সালে নিয়োগ পাওয়া ২৯ ও ৩৯ জন, ২০১৩ সালে তিন দফায় নিয়োগ পাওয়া ৭, ২১ ও ৫১ জন, ২০১৪ সালে দুই দফায় নিয়োগ পাওয়া ৫৩ ও ৩৩ জন, ২০১৬ সালে দুই দফায় নিয়োগ পাওয়া ২৬ ও ৫ জনসহ মোট ৪৮৩ জন প্রকৌশলী জ্যেষ্ঠতার তালিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ২০১৮ সালের ২ জুলাই প্রধান প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন জামাল উদ্দীন, শফিকুর রহমান ভুঁইয়া, রেজাউল ইসলাম, মানস মণ্ডল, সারমীন জেবিন, আবুল হায়াত চৌধুরীসহ ১৫ সহকারী প্রকৌশলী। তাঁরা জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রকাশ না করার আগ পর্যন্ত সব পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন জানান। তাঁদের অভিযোগ, এরপরই মাঝেমধ্যে এসব নিয়োগ অনুসরণ না করে পদোন্নতির আদেশ জারি হচ্ছে।

এসব ব্যাপারে মোশাররফ হোসেন বলেন, সমস্যা সমাধানে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি জ্যেষ্ঠতার একটি খসড়া তালিকাও তৈরি করেছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর শিগগিরই এটা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তখন সবাই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন। সবাইকে সেটা মেনেও নিতে হবে।




আরও পড়ুন

×