ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার: অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন

দেশে টিকা তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম গড়তে চাই

দেশে টিকা তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম গড়তে চাই
×

অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন - ফাইল ছবি

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২২ | ০২:৪০

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে করোনার টিকা উৎপাদনের একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এমারজেন্ট বায়োটেক। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রির সাবেক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজে অধ্যাপনা করছেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সফরকালে তাঁদের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন সমকালের নিজস্ব প্রতিবেদক তবিবুর রহমানের সঙ্গে।

সমকাল :বাংলাদেশে করোনার টিকা তৈরির উদ্যোগ কেন নিলেন?
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :টিকা কিনতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। দেশেই টিকা উৎপাদন হলে এই খরচ কমে আসবে। এ জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যাতে করোনাসহ সব ধরনের টিকা দেশেই উৎপাদন করা যায়।

সমকাল :আপনার প্রতিষ্ঠান এর আগে টিকা নিয়ে কোনো গবেষণা করেছে?
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এমারজেন্ট মূলত নতুন ওষুধ বাজারে আসার আগে গবেষণা ও ট্রায়ালে সহযোগিতা করে থাকে। বিভিন্ন গবেষণার প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, অ্যানিমেল মডেল, প্রাইমেট মডেল ও হিউম্যান ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নিয়ে আমরা কাজ করি। এসব কাজের জন্য এমারজেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ) থেকে বছরে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার অনুদান পায়। ২০২১ সালে করোনাভাইরাস শনাক্তে কিট তৈরি করেছিলাম। বাংলাদেশ সরকার সেই কিট ৫ লাখ কিনতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

সমকাল :আপনাদের করোনা টিকা তৈরিতে সরকার কেন ভূমিকা রাখবে?
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :সরকারি অনুদান বা সহযোগিতা ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে টিকা তৈরি ও গবেষণা সম্ভব নয়। বিশ্বের শতাধিক দেশে টিকা তৈরিতে সংশ্নিষ্ট সরকার অর্থায়ন করেছে। তবে আমরা ওয়ার্ক অর্ডার বা অনুদান চাইনি। শর্ত মেনে করোনার টিকা তৈরিতে সফল হলে সরকার আমাদের কাছ থেকে দুই কোটি ডোজ কিনবে- এমন প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। তাহলেই ব্যয়বহুল এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমাদের করোনার টিকার নাম 'ডিউ-বিডি-ভ্যাক'। এটি এক ডোজের টিকা। দাম হতে পারে ৫ থেকে ৬ ডলার। এটা সংরক্ষণ সহজ হবে।

সমকাল :জেঅ্যান্ডজের টিকার প্যাটেন্ট রেগুলেশন কি চুক্তি ছাড়া নেওয়া সম্ভব হবে?

অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশের ওষুধের মেধাস্বত্ব বিধান হতে অব্যাহতি সুবিধা রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার 'ট্রিপস' বা আইপি রাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ জেঅ্যান্ডজেসহ যে কোনো করোনার টিকার প্যাটেন্ট নিয়ে গবেষণা বা উৎপাদন করতে পারবে।

সমকাল :আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :দেশে বুস্টার ডোজ সম্পন্ন করতে এখনও আট কোটি টিকার প্রয়োজন। এই বিপুল টিকা স্থানীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে কেনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। সরকার সুযোগ দিলে দেশে টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নিয়ে একটা গবেষণা কেন্দ্র হবে।

সমকাল :করোনার বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন কী রকম?
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :করোনা এখন জ্বর-সর্দি পর্যায়ে এসে গেছে। তবুও করোনার টিকা নিতে হবে। কারণ, টিকা নেওয়ার পর ছয় মাসের বেশি অ্যান্টিবডি থাকে না। বয়স্কদের বছরে দুইবার এই টিকা নিতে হবে। হজে যেতে চাইলে বুস্টার ডোজ নিতে হচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল এরই মধ্যে চতুর্থ ডোজ দেওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশে আসার আগে জাপানের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বুস্টার ডোজ নেওয়া সত্ত্বেও সেখানে তিন দিন কোয়ারেন্টাইনে থেকে কভিড টেস্ট করতে হয়েছে। আগামীতে হয়তো অন্যান্য টিকার মতো জন্মের পর শিশুদের করোনা টিকা দেওয়া হতে পারে।

সমকাল :সরকারের ক্রয়াদেশ পাচ্ছেন না কেন? সমস্যা কোথায়?
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন :দুই কোটি টিকার ক্রয়াদেশ প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছি। সুপারিশসহ তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর চার মাস পার হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই।

আরও পড়ুন

×