ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

৯০ হাজার কারাবন্দি ঘিরে বিশেষ সতর্কতা

৯০ হাজার কারাবন্দি ঘিরে বিশেষ সতর্কতা
×

সাহাদাত হোসেন পরশ

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০ | ১৩:৩৬

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের ৬৮টি কারাগার ঘিরে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯০ হাজার কারাবন্দি কারও শরীরে করোনার কোনো বাহ্যিক লক্ষণ রয়েছে কিনা তা সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে কারা চিকিৎসকসহ সংশ্নিষ্ট সবাইকে। নতুন সব কারাবন্দিকে আলাদা রাখার ব্যবস্থাও করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ১৪ দিন পর্যবেক্ষণের পর তাদের অন্য বন্দিদের সঙ্গে রাখা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্বসাপেক্ষে দু-এক দিনের মধ্যেই ইনফ্রারেড থার্মোমিটার কিনতে চলেছে কারা বিভাগ। এ ছাড়া থার্মাল স্ক্যানার চেয়েও তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন সমকালকে বলেন, করোনার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে একাধিক চিঠি দেশের সব কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিশেষ আর কী কী করার আছে, তা জানতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো বন্দি কারাগারে ঢুকলেই প্রথম ১৪ দিন আলাদাভাবে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কর্নেল আবরার বলেন, সাধারণ থার্মোমিটার দিয়ে হাজতি ও কয়েদিদের জ্বর পরিমাপ করা হলে ওই থার্মোমিটারের মাধ্যমে অন্যের শরীরেও জীবাণু সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারা কর্তৃপক্ষ ইনফা রেড থার্মোমিটার কিনছে। থার্মাল স্ক্যানার কেনার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তাই ইনফা রেড থার্মোমিটার দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে।
কারা উপমহাপরির্শক টিপু সুলতান বলেন, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে যে ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে, তা মেনে চলতে সব কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ছবি বা চিহ্ন সংবলিত বিভিন্ন নির্দেশিকা তৈরি করেও সব কারাগারে সরবরাহ করা হয়েছে।
তিন বন্দির লালা পরীক্ষা :এদিকে এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও বাগেরহাট জেলে বন্দি তিনজনের লালা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু'জন চীনের নাগরিক। আরেকজন সম্প্রতি চীন থেকে ফিরেছেন। চীনের দুই নাগরিক অনেক দিন ধরেই বাগেরহাট কারাগারে রয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অপর যে বাংলাদেশি নাগরিকের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে, তিনি একটি জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। চীন থেকে ফেরার পর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরীক্ষায় চীনের দুই নাগরিকসহ তিন কারাবন্দির কারও শরীরেই করোনার জীবাণু পাওয়া যায়নি। তারা তিনজনই সুস্থ রয়েছেন। আইইডিসিআরের প্রতিনিধিরা কারাগারে গিয়ে ওই তিনজনের নমুনা পরীক্ষা করেছিলেন।
কারাগারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, কারাবন্দি যে তিনজনের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে যারা বন্দি ছিলেন, তাদেরও বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তবে তাদের শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ ধরা পড়েনি।
জরুরি নির্দেশনা পালন করা হচ্ছে :করোনা ঘিরে নেওয়া জরুরি নির্দেশনা ঠিকঠাকমতো পালন করা হচ্ছে কিনা তা তদারক করছেন কারা অধিদপ্তরের ডিআইজিরা। ইতোমধ্যে দেশের ৬৮টি কারাগারের প্রায় ৯০ হাজার বন্দির সবার জন্য সাবান ও হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাগারের ভেতর ও আশপাশ এলাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে দেওয়া হয়েছে লিখিত নির্দেশনা।
বর্তমানে কারাগারে ২১-২২ জন চিকিৎসক রয়েছেন, যে সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। কারাগারের জন্য আরও চিকিৎসক চাওয়া হয়েছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বন্দিদের মধ্যে জ্বরের কোনো লক্ষণ রয়েছে কিনা, তার ওপর তীক্ষষ্ট নজর রাখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার সবকিছুই পালন করা হচ্ছে।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, করোনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হলো লোকসমাগমস্থল এড়িয়ে চলা। সাধারণ কারাগারে একই জায়গায় অনেক বন্দি থাকেন। দেশে প্রায় সব কারাগারেই ধারণক্ষমতার বেশি বন্দি রয়েছেন। তাই বন্দিদের মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
কারাগারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, করোনা ঘিরে দেশের সব কারাগারে যেসব পরিচ্ছন্নতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, তাতে মশার উৎপাতও কমে আসবে। এরই মধ্যে ৬৮টি কারাগারের জন্য আলাদা স্প্রে মেশিন কিনে তা সরবরাহও করা হয়েছে।
চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কিছুটা কমলেও ইতালি, ইরানসহ অনেক দেশে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে খুবই দ্রুতগতিতে। এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রায় ৭০ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইরান। করোনা আতঙ্কে ইতালির একটি কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গায় প্রাণ গেছে অন্তত ছয়জনের।


আরও পড়ুন

×