জনস্বার্থে আইনের প্রয়োগ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তি
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ০৮:০১
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমনকে বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জনস্বার্থে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের চলমান প্রস্তুতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এরপরও পরিবর্তনশীল বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতির আলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর 'সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮'-এর কতিপয় ধারা প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
এই আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধিকারের মধ্যে রয়েছে, ধারা-১(চ): বাসগৃহ, অন্যান্য গৃহ, ক্লিনিক, হাসপাতাল এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্র বা কোনো স্থাপনায় সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সেবা প্রদান করলে বা অনুরূপ রোগে সংক্রমনের আধার হিসাবে বিবেচিত হলে উক্ত স্থান বা স্থাপনা পরিদর্শন ও তদনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধারা-১(জ): সংক্রামক রোগের তথ্য রয়েছে এমন ব্যক্তিকে ওই রোগের বিষয়ে অধিদপ্তরে তথ্য পাঠাতে হবে; ধারা-১(ট): সংক্রামক রোগে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট হাসপাতাল, অস্থায়ী হাসপাতাল, স্থাপনা বা ঘরে অন্তরীণ অথবা পৃথক রাখতে হবে। ধারা-১(ত): সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে উড়োজাহাজ, জাহাজ, জলযান, বাস, ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহন দেশে আগমন, নির্গমন বা দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান হতে অন্য স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্য ধারাগুলো হলো- ধারা-১০: সংক্রামক রোগের তথ্য প্রদান- ১. যে চিকিৎসক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন এবং ওই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কোনো বাসা-বাড়ি, প্রাঙ্গন বা এলাকায় সংক্রামক রোগে অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হলে, তা তিনি সিভিল সার্জনকে অবহিত করবেন। ২. কোন বোর্ডিং, আবাসিক হোটেল বা অস্থায়ী বাসস্থানের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির যুক্তিসংগত কারণে ধারণা হয় যে, উক্ত স্থানে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত, তাহলে অনতিবিলম্বে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন।
ধারা-১১: সংক্রমিত এলাকা ঘোষণা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে যদি প্রতীয়মান হয় যে, যথাযথভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংক্রামক রোগ সীমিত বা নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাহলে তিনি সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা সংক্রমিত স্থানে অন্য কোন ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ, সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
ধারা-১৪: রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িক বিছিন্নকরণ- ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর যদি বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হলে তার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন। তাহলে ওই ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা বিচ্ছিন্ন করা যাবে।
ধারা-১৮: যানবাহন জীবানুমুক্তকরণের আদেশ প্রদানের ক্ষমতা- ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর যদি বিশ্বাস করার যুক্তিসংহত কারণ থাকে যে, কোনো যানবাহন সংক্রামক জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে এবং তাতে সংক্রামক রোগের জীবানু রয়েছে। তাহলে তিনি ওই যানবাহন জীবানুমুক্তকরণের জন্য মালিক বা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দিতে পারবেন।
ধারা-২০: মৃতদেহের সৎকার- যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেছেন-এমন সন্দেহ হলে ওই মৃত ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর নির্দেশনা অনুযায়ী দাফন বা সৎকার করতে হবে।
ধারা-২৫: দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপনের অপরাধ ও দণ্ড- যদি কোনো ব্যক্তি মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোন নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই অপরাধে ওই ব্যক্তি অনুর্ধ্ব তিন মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ধারা-২৬: মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দণ্ড- যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহলে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে ওই ব্যক্তি অনুর্ধ্ব দুই মাস কারাদণ্ড বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
ধারা-২৭: ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ-এই আইনের অধীন সংঘঠিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে। বিদেশ থেকে আগত কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরোপিত কোয়ারেন্টাইনের শর্ত সঠিকভাবে পালন করছেন না। অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্নিষ্ট সবাইকে আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি আইনের ব্যত্যয় ঘটালে শাস্তিমূলক সংশ্নিষ্ট ধারা প্রয়োগ করা হবে।
