মৎস্য খাতের উন্নয়নে সমঝোতা স্বাক্ষর
মৎস্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে রোববার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৩ | ১৪:৫৮ | আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৩ | ১৪:৫৮
বাংলাদেশে মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ডাচ-বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম। মৎস্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে রোববার এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক। ডাচ-বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি হিসেবে লারিভ ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ম্যাথিয়াস ব্রাইনেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের ফাইন্যান্স ও প্ল্যানিং বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শাহেদ আলী, লাইটক্যাসল পার্টনারসের পরিচালক জাহেদুল আমিন এবং লারিভ ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডসের দূতাবাসের প্রতিনিধিবৃন্দ।
কনসোর্টিয়ামটি নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘লারিভ ইন্টারন্যাশনাল’ এবং দেশের ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং প্রতিষ্ঠান ‘লাইটক্যাসল পার্টনারস’ দ্বারা যৌথভাবে পরিচালিত।
এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ডাচ দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত চার বছর মেয়াদী ‘ফুডটেক বাংলাদেশ’ প্রকল্প বাংলাদেশের চিংড়ি ও মৎস্য খামারীদের প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির মাধ্যমে মৎস্য খাতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।
প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে, মৎস্য খামারীদের মাঝে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিতরণ ও মৎস্য চাষে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এতে তারা আধুনিক চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশে চিংড়িসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় মাছের উন্নত হ্যাচারী ও খামার গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। এর ফলে তাদের (মাছ চাষিদের) উৎপাদনশীলতা বাড়বে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণ ইউনিটসহ মোট ৭৫ জন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে উন্নত মৎস্য প্রযুক্তি এবং আধুনিক চাষ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ডাচ-বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামটি স্থানীয় ১৬০০ জন চিংড়ির খামারী এবং অন্যান্য মাছের হ্যাচারি অপারেটর ও কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি প্রশিক্ষণ পাঠ্যক্রম তৈরি করতে মৎস্য বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এই সহযোগিতার ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কৃষকরা টিকে থাকতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, ‘বর্তমান সময়ে আমরা মাছ চাষের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও চাষ পদ্ধতি সম্পর্কিত দক্ষতা উন্নয়ন এবং এর বাস্তবিক ব্যবহারকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি। এই সহযোগিতার ফলে কৃষকদের পাশাপাশি আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদেরও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন ঘটবে। এটি একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত।’
ম্যাথিয়াস ব্রাইনেন বলেন, ‘ডাচদের দক্ষতা এবং কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের হ্যাচারি অপারেটর এবং কৃষকদের সক্রিয় সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। আমরা বাংলাদেশের মৎস্য চাষের উন্নয়নে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চাই। মৎস্য বিভাগ দীর্ঘ সময় ধরে কৃষকদের নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। এজন্য আমরা তাদের সাথে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।’
- বিষয় :
- মৎস্য
- মৎস্য অধিদপ্তর
