সার্ভার জটিলতায় ট্রেনের টিকিট পেতে ভোগান্তি
প্রতীকী ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৩ | ২৩:৩২
ঈদযাত্রার ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে সার্ভার জটিলতায় ভুগতে হয়েছে যাত্রীদের। প্রথম দিনের মতো গতকাল শনিবারও সকাল ৮টায় বিক্রি শুরুর কয়েক মিনিটেই উত্তরবঙ্গের সব ট্রেনের টিকিট ফুরিয়ে যায়।
সারাদেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাকল্যে আসন ১ লাখ ১ হাজার ৮৯৫টি। আর ঢাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনের আসন সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৭৪টি। গতকাল বিক্রি হয় ১৮ এপ্রিলের টিকিট। এদিন রেলের টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে ঢোকেন ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯২ জন।
রেলওয়ে বলছে, চাহিদা ও জোগানের এই বিশাল পার্থক্যেই সার্ভারে সমস্যা। রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, টিকিট বিক্রির অপারেটরকে সমাধান করতে বলা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, কিছু ফিক্সড আইপি থেকে অটোমেটেড লগইন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কারণে সার্ভারে জট তৈরি হয়।
টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সহজ-সিনোসিস-ভিনসেন্ট জেভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ দেবনাথ আগের দিনই দাবি করেন, হিটের সংখ্যার (টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রী) চেয়ে তাঁদের সার্ভারের সক্ষমতা বেশি।
আবদুর রাজ্জাক সরকার নামে এক যাত্রী জানান, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের টিকিটের জন্য দুটি মোবাইল থেকে একসঙ্গে চেষ্টা করেন। স্নিগ্ধা (শীতাতপ) শ্রেণির টিকিট পানও। কয়েক দফা চেষ্টায় আসন বাছাই করেন। তবে টাকা পরিশোধের অপশনে গিয়ে আটকে যান। আর টিকিট পাননি।
ঢাকা-মোহনগঞ্জ পথের ‘হাওর এক্সপ্রেস’ কিংবা ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’র টিকিট কিনতে ঠিক সকাল ৮টায় চেষ্টা করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, আসন বাছাই করতে পারছিলেন না। ‘সিট সিলেকশন’ অপশনে চাপলে মেসেজ আসে এই মুহূর্তে তা সম্ভব হচ্ছে না। অপেক্ষা করতে বলা হয়। এভাবে ৩২ মিনিট চেষ্টায় টিকিট পাননি।
উত্তরবঙ্গগামী এবং ময়মনসিংহ হয়ে চলা ট্রেনের টিকিটের জন্য হাহাকার চললেও আগের দিনের মতো গতকালও ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-সিলেট রুটের টিকিট ছিল সহজলভ্য। গতকাল রাত ৮টায়ও ১৮ এপ্রিলের ‘সুবর্ণ এক্সপ্রেস’, ‘তূর্ণা এক্সপ্রেস’, ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ এবং ‘সোনারবাংলা এক্সপ্রেস’র এসি কামরার অর্ধেকের বেশি টিকিট অবিক্রীত ছিল। ছিল ১৭ এপ্রিলের ট্রেনের টিকিটও। একই অবস্থা সিলেট রুটের ট্রেনের। আগের দিন দক্ষিণবঙ্গের ট্রেনের টিকিট অবিক্রীত থাকলেও গতকাল চিত্র বদলেছে। খুলনার ১৮ এপ্রিলের ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ এবং ‘চিত্র এক্সপ্রেস’র টিকিট সকালেই শেষ হয়।
কালোবাজারি বন্ধে এ বছর ঈদযাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে রেলওয়ে। স্বচ্ছতার জন্য ক্রেতার তালিকাও প্রকাশ করছে। ক্রয়ের সময়সহ বিস্তারিত তথ্য কমলাপুর স্টেশনের সামনে এবং রেলওয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে, সেগুলো সন্দেহ তৈরি করেছে। টিকিট পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। পরিচয়পত্রে যে নাম থাকে, রেলের অ্যাকাউন্টেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা আসে। তবে ক্রেতার তালিকায় থাকা বহু নাম এক শব্দের। যেমন যমুনা এক্সপ্রেসের শোভন শ্রেণির টিকিট কেনা ৫৮ নম্বর যাত্রীর নাম টুটুল। একই ট্রেনের টিকিট কিনেছেন শরিফুল, হাসিবুল, সেলিম ও কমলা। তাঁদের নামের আগে-পিছে কিছুই নেই। আরেক ক্রেতার নাম শুধুই বুলেট।
আবার কয়েকজন যাত্রীর নাম কতগুলো ইংরেজি বর্ণমালা। যার উচ্চারণ করা যায় না। এর ব্যাখ্যায় রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু যাত্রী জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। সেখানে বাংলায় নাম রয়েছে। তা ইংরেজিতে রূপান্তরের সময় এই ভুল হয়েছে। তবে এক শব্দের নামের বিষয়ে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে অনেকে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন স্ক্রিনশট দিয়ে। হাফিজুর রহমান শান্ত নামের এক যাত্রী টিকিটের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ঢাকা থেকে জামালপুরগামী তিস্তা এক্সপ্রেসের কেবিনে আসন সংখ্যা ৩৩টি। তিনি তিনটি টিকিট কিনতে গিয়েও পাননি। ক্রেতার তালিকা অনুযায়ী ২৪টি আসনের টিকিট বিক্রি হয়েছে। বাকি ৯টির টিকিট কোথায় গেল?
মাহবুবুল হাসান লিখেছেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটেই ঢুকতে পারেননি। তাঁকে ‘কিউ’ অর্থাৎ লাইনে থাকতে বলা হয়। মনজরুল ইসলাম লেখেন, অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেননি। বার্তা দেওয়া হয়, এই মুহূর্তে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই সম্ভব হচ্ছে না।
আগে আন্তঃনগর ট্রেনের অর্ধেক টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হতো। ২-৩ রাত স্টেশনে লাইন ধরতেন হাজারো মানুষ। এবার ভিড়ের ভোগান্তি নেই। তবে যাঁদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সাধ্য ও সামর্থ্য নেই, তাঁরা এবার টিকিট পাচ্ছেন না। স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটার থাকলেও টিকিট মিলছে না, যদি উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ না থাকে।
রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, একজনের ইন্টারনেটের গতি সেকেন্ডে ২০ মেগাবাইট আরেকজনের সেকেন্ডে ১০ মেগাবাইট। যাঁর ইন্টারনেটের গতি বেশি, তিনি ন্যানো সেকেন্ডের ব্যবধানে সার্ভারে ঢুকে যাবেন। যাঁর গতি কম, তিনি টিকিট পাবেন না। এ কারণে উত্তরবঙ্গের সব জেলা এবং ময়মনসিংহ হয়ে চলা যেসব ট্রেনের টিকিট চাহিদা বেশি, সেগুলো নিয়ে অভিযোগ আসছে।
