সংসদীয় কমিটির সভাপতির অভিযোগ
ট্রেনযাত্রীরা মানসম্পন্ন খাবার না পাওয়ায় দায়ী সরকারবিরোধী লোকজন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৩ | ১৫:৪৯ | আপডেট: ০৯ মে ২০২৩ | ১৫:৪৯
বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনের অন-বোর্ড (অ্যাটেনডেন্ট) ও ক্যাটারিং সার্ভিসের (খাবার সরবরাহ) মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। তাঁর মতে, এগুলো পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা সরকারবিরোধী লোক। এ কারণেই যাত্রীরা মানসম্পন্ন খাবার পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির ২৫তম বৈঠকে এ অভিযোগ কার্যবিবরণীতে রেখে আজকের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, শফিকুল আজম খান ও নাদিরা ইয়াসমিন জলি।
বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, কমিটি সভাপতির এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়েতে কোন প্রক্রিয়ায় ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় তা কমিটির পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।
বৈঠকে ফজলে করিম বলেন, সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতি এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, পার্বতী এক্সপ্রেসসহ বেশ কিছু অন্তঃনগর ট্রেনে অন-বোর্ড (চলন্ত গাড়িতে যাত্রীসেবা) অথবা ক্যাটারিং সার্ভিস সরকারবিরোধী লোকজন পরিচালনা করছে। কমিটির সভাপতি বলেন, এসব ট্রেনের সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তিনি সার্ভিস পরিচালনাকারীদের (লিজ গ্রহণকারীদের) চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি না করে নতুনভাবে তালিকাভুক্ত করে দরপত্রের মাধ্যমে পরিচালনার পরামর্শ দেন।
ওই বৈঠকের অগ্রগতি প্রতিবেদনে মঙ্গলবারের বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, রেলওয়ের ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পাওয়া আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তালিকাভুক্তির পর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্যাটারিং সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কমিটি সভাপতির অভিযোগ তোলা পাঁচ ট্রেনের মধ্যে দুটির অন-বোর্ড সার্ভিস রেলের অ্যাটেনডেন্ট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। অন্য তিনটি ট্রেনের অন-বোর্ড সার্ভিস বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন-বোর্ড সার্ভিস পরিচালনায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষের পরে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অন-বোর্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনে ধীরগতিতে কমিটির উষ্মা
এদিকে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেড় বছর আগে দেশের সব রেলস্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ধীরগতিতে উষ্মা প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। যদিও মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ৩৫টি রেলস্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের জন্য দরপত্র হয়েছে। ম্যুরালের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনী সংযুক্ত করা হবে। তবে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও সংক্ষিপ্ত জীবনী স্থাপনের আগে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমোদনের প্রয়োজন।
পরে এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী দেড় বছর আগে প্রতিটি স্টেশনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তা এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন।
সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, রেলের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ২৯টি, পশ্চিমাঞ্চলের ২৮টি মোট ৫৭টি স্টেশনের দর্শনীয় স্থানে ম্যুরাল স্থাপনের জন্য ই-জিপিতে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিপত্র শেষ করা হয়েছে। কাজটি অতি দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।
