নির্বাচনের আগে মহাসড়কে নছিমন-করিমন বন্ধ নয়
ফাইল ছবি - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৩ | ১৬:২৩ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৩ | ১৬:২৩
জাতীয় মহাসড়কে ভটভটি, নছিমন ও করিমনের মতো ধীরগতির যানবাহন দুর্ঘটনাপ্রবণ হলেও সংসদ নির্বাচনের আগে সেগুলো বন্ধ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির এ অবস্থানকে কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করে অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে আবার ক্ষমতায় এলে এবং সবার সম্মতি পাওয়া গেলে এসব যানবাহন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য এনামুল হক, রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, ছলিম উদ্দীন তরফদার, সেখ সালাহউদ্দিন ও রাবেয়া আলীম।
আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পর আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুমোদন দেওয়া হয়। কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, আগের বৈঠকে আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য আবু জাহির আলোচনায় অংশ নিয়ে মহাসড়কে নছিমন ও করিমন বন্ধ নিয়ে বক্তব্য দেন। জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্বাচনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় জনপ্রতিনিধিরা চান না ধীরগতির এসব যানবাহন বন্ধ হোক। সবার সহযোগিতা পেলে এবং দল ক্ষমতায় এলে পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার মহাসড়ক থেকে ধীরগতির এসব যানবাহন বন্ধের সুপারিশ করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে যানজট ও দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও নছিমন-করিমন বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিটির সুপারিশের পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে গত মার্চে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল সীমিত করতে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়। ওই নীতিমালায় ১২৬ সিসির কম ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল মহাসড়কে চলতে পারবে না বলে প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি মহাসড়কে মোটরসাইকেলের পেছনে কোনো যাত্রী উঠতে পারবে না বলেও সুপারিশ আসে।
তবে ওই নীতিমালায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, সড়কে যেমন গাড়ি চলে, তেমনি মোটরসাইকেলও চলে। মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। এর গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হলে চালকরা নিরুৎসাহিত হবেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন।
ওই নির্দেশনার পর নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর পদ্মা সেতুতেও মোটরসাইকেল চলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পদ্মা সেতু যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার দিন দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
