ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউরোপীয় সংসদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গৃহীত

ইউরোপীয় সংসদে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গৃহীত
×

ছবি: পলিটিকো

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৪:৪৩ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০০:২২

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব বা রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, বিশেষ করে মানবিধাকার সংগঠন অধিকার এর বিষয়টি নিয়ে। ইউরোপীয়ান সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে সংসদের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা এনজিও, মানবাধিকার রক্ষাকারী, মানবাধিকার কর্মী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সক্ষম পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। বাংলাদেশকে অবশ্যই  আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে, বিশেষ করে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক যে কনভেনশন রয়েছে। সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো যাতে বিদেশী অনুদান গ্রহণ করতে পারে তা বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

ইউরোপীয়ান সংসদ সদস্যরা অধিকারের দুই নেতা- আদিলুর রহমান খান এবং এএসএম নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে দেওয়া কারাদণ্ডের নিন্দা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে এই রায় বাতিল করার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশের সাথে একটি এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) বর্ধিত প্রক্রিয়াগুলো চলমান রয়েছে। সংসদ সদস্যরা বলেন, অধিকারের সঙ্গে যা হচ্ছে তা একটি দুঃখজনক ও পশ্চাদগামী পদক্ষেপ হিসাবে নিন্দা করেন তারা। ইবিএ বাংলাদেশে প্রয়োগ করা উচিত কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

বাংলাদেশের বিচারাধীন বিষয়ে বহির্বিশ্বের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যা নিয়ে ইউরোপীয় সংসদে আলোচনা করছেন, তার কোন আইনসিদ্ধ অধিকার তাদের নাই। তারা অনেকেই বক্তব্য দিতে পারেন। তবে এটি দু:খজনক কারণ তারা বক্তব্য দেন কারও কারও প্ররোচনায়। কেউ উদ্যোগ নেয়, তাদের দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য। দেশে আপনারা (সাংবাদিকরা) এ নিয়ে কথা বলেন দেখে তারা মজা পায়। আপনারা যদি তাদের এড়িয়ে চলতেন, তাহলে এসব বক্তব্য আসতো না। অন্য দেশে বা ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাদের সাংবাদিকরা এড়িয়ে যায়। কিন্তু আপনারা এটিকে খুব মাত দেন। বিদেশিরা কিছু বললেই আপনারা লাফায় উঠেন।

এ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয়ান সংসদে যারা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন, তাদের আট জনের মধ্যে অন্তত্য দুজন বলেছেন যে তারা এ ধরনের রেজুলেশনের পক্ষ নয়। তাদের মধ্যে একজন বলেছেন যে এ ধরনের কার্যক্রম নতুন উপনিবেশবাদকে উসকে দিতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর ইউরোপের আচরন ঠিক নয় বলেও বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিপক্ক সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে, সেটিও আবার বিচারাধীন, এ ধরনের কার্যক্রমে আশাকরি ইউরোপীয়ান সংসদ হস্তক্ষেপ করবে না, ইউরোপীয়ান কাউন্সিল এটিকে আমলে নেবেন না।

মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, এটি আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। আশাকরি তাদের সাধারন বোধ আসবে। এটিকে আমরা একদিক থেকে আমলে নেব, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত হলে চোখ বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকতে পারি না। সেই জায়গা থেকে আমরা আমলে নিয়েছি।


আরও পড়ুন

×