ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় আনসার

মার্কিন দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় আনসার
×

আনসার বাহিনীর বিশেষায়িত গার্ড ব্যাটালিয়ন সদস্য

আব্দুল হামিদ

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৩ | ১৪:১৬ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১২:৩৫

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের গমনাগমনের নিরাপত্তায় এসকর্ট সুবিধা দিতে শুরু করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। সর্বপ্রথম পুলিশি এসকর্ট সুবিধা বাতিল করে আনসার বাহিনীর বিশেষায়িত গার্ড ব্যাটালিয়নের (এজিবি) সদস্যদের নিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস। ১৬ সদস্যের একটি এজিবি ইউনিট গত ২২ অক্টোবর থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ শুরু করেছে। দায়িত্ব পালনের আগে গত ১৫ ও ১৯ অক্টোবর দু’দিন এজিবি ইউনিটটি মার্কিন দূতাবাসে একটি ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ একটি দল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের শারীরিক নিরাপত্তা, ভেহিকুলার মুভমেন্ট ও রুট প্রটেকশনের দায়িত্ব এজিবি সদস্যদের মাধ্যমে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এতে মার্কিন দুতাবাসের পক্ষে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং আনসার বাহিনীর পক্ষে একজন পরিচালক স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া আরও বিদেশি মিশন থেকে এজিবি সদস্যদের দিয়ে এসকর্ট সুবিধা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মিশন থেকে যোগাযোগও করেছেন।

আরও জানা যায়, এর আগে মার্কিন দূতাবাসের ওই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ দলটি গাজীপুর শফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে এজিবি সদস্যদের ট্রেনিং, অপারেশনাল দক্ষতা ও অন্যান্য সক্ষমতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা একজন ভিআইপি’র চলাচলের সময় এবং ভেন্যুতে কিভাবে ঘনিষ্ঠ শারীরিক নিরাপত্তা (সিপিপিজি) দেওয়া হবে; তার ওপর অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করলে বা কাছে থেকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করলে তাকে কিভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে; ভিআইপি কোথাও অবস্থানকালে কোনো জরুরি পরিস্থিতির মুখে পড়লে তাকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখতে হবে তার একটি ড্রিল প্রদর্শন দেখেন। এ ছাড়া ভিআইপি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কীভাবে সিআরপি দিতে হবে সেই মহড়া দেখানো হয়।


এরপর শত্রুর আক্রমণের থেকে বাঁচিয়ে ভিআইপিকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় এজিবি’র কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) কীভাবে শত্রুর সঙ্গে সংঘর্ষ করবে তারও মহড়া দেখানো হয়। সর্বশেষে এজিবি সদস্যদের শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষা (পিইটি) এবং রেঞ্জ দক্ষতা পরীক্ষা (আরইটি) নেওয়ার বিষয়ও বিশেষজ্ঞ টিম দেখেন।

ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত ছিলেন পুলিশের বিশেষ বিভাগ ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশন। নিয়মিত নিরাপত্তার বাইরে তারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের চলাচলের জন্য বাড়তি পুলিশি প্রটোকল দিতেন। সম্প্রতি এই এসকর্ট সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সময় এজিবি সদস্যদের মাধ্যমে এসকর্ট সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে গত ১৮ মে আনসার বাহিনীর মহাপরিচালকের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় কোন কূটনৈতিক মিশন যদি রাষ্ট্রদূতদের জন্য ভেহিকুলার মুভমেন্ট এবং রুট প্রটেকশনের নিরাপত্তায় দক্ষ এজিবি সদস্যদের নিতে চায়। তারা সে সুবিধা নিতে পারবে। তবে মাসে এজিবি সদস্যদের অপারেশনাল কন্টিনজেন্সি হিসেবে মাথাপিছু ৩০০ ডলার করে দিতে হবে দূতাবাসকে।

২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে হামলার দুই মাস পর ৩০ আগস্ট এক অফিস আদেশ জারি করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই আদেশ বাংলাদেশে অবস্থানরত দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তায় আনসার বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, এজিবি সদস্যদের মাসে ২৫০ ডলার করে দিতে হবে দূতাবাসগুলোকে। তারপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতাবাসে দীর্ঘ ছয় বছর দায়িত্ব পালন করেন এজিবির সদস্যরা। করোনার মধ্যে সেই সেবা নেওয়া বন্ধ করে দেয় তারা। বর্তমানে আইসিডিডিআরবি’তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গঠন করা হয় এজিবি। ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কুইক রেসপন্স প্রশিক্ষণ (কিউআরটি), স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ (এসটিটি) ও স্পেশাল প্রোটেকশন প্রশিক্ষণ (এসপিটি), বিশেষ অস্ত্র ও ট্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।

আনসার বাহিনীতে বর্তমানে একটি গার্ড ব্যাটালিয়ন, ২টি মহিলা ব্যাটালিয়নসহ ৪২টি আনসার ব্যাটালিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৬টি ব্যাটালিয়নের সাত হাজার সদস্য পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় একক ভাবে ৬০টি এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে ও যৌথভাবে ১৮০টি ক্যাম্পে কাজ করছে। এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায়ও অংশ নেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনসার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক রাজীব হোসাইন সমকালকে বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এসকর্ট সুবিধা দিতে ১৬ সদস্যের একটি এজিবি ইউনিট কাজ শুরু করেছে। গত রোববার থেকে এজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

আরও পড়ুন

×