করোনা উপসর্গে শিশুসহ মৃত্যু আরও ১১
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ১২:০০
করোনার উপসর্গ নিয়ে শিশুসহ আরও ১১ জন মারা গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, পিরোজপুর, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, রাজবাড়ী, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে তাদের মৃত্যু হয়। তাদের প্রত্যেকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ নিয়ে সারাদেশে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো করোনা উপসর্গ নিয়ে ২৬৯ জনের মৃত্যু হলো।
ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- গতকাল সকাল ৯টার দিকে খুলনার দীঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সদরের খেজুর বাগান এলাকার এক ব্যক্তি (৬০) মারা যান। ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই ব্যক্তি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে ভর্তির এক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান। এর আগে শুক্রবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায় এক বছরের এক শিশু। হাসপাতালের ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, বটিয়াঘাটা উপজেলার খারাবাদ বাইনতলা এলাকার ওই শিশুটিকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বরিশালে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক আনসার সদস্য মারা গেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক বাকির হোসেন। ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া গ্রামে। জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট থাকায় গত মঙ্গলবার তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্ম?ণদিয়া গ্রামের এক কৃষক (৫০) করোনা উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৪টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা এক নারী (৫৫) গতকাল ভোরে মারা গেছেন। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তার বাড়ি পিরোজপুর পৌরসভার মুক্তারকাঠী এলাকায়।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এক নারীর (৪০) মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, শুক্রবার রাত ৮টায় ওই নারী জ্বর, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন। পরে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৯টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এদিকে ওই নারীকে রাতে হাজীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির কবরস্থানে দাফন করতে গেলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। পরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেনের সহায়তায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার দাফন হয়।
করোনা উপসর্গ নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মারা গেছেন এক পুলিশ সদস্য। তার বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে। তিনি নারায়ণগঞ্জ এলাকায় কর্মরত ছিলেন। গত কিছু দিন আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হলে বিশ্রামে থাকার জন্য বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে আসার পর তার শরীরে তীব্র ব্যথা, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট অনুভূত হলে গত ২৭ এপ্রিল তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের বিষয়সাওরাইল গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান পেশায় চা দোকানি ওই ব্যক্তি। বেশ কয়েকদিন ধরেই তিনি জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে শুক্রবার এক ব্যক্তি (৪৫) মারা গেছেন। সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান জানান, ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সম্প্রতি তিনি বাড়ি আসেন। শুক্রবার সকালে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে তিনি মারা যান। এদিকে ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফনে গ্রামবাসী বাধা দেয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম মরদেহ তার শ্বশুরবাড়িতে দাফন করে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মারা যান এক যুবক। তার বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১১ নম্বর চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া গ্রামে। তার স্বজনদের দাবি, এর আগে নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা করোনা সন্দেহ করায় তার চিকিৎসায় অবহেলা করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসিব আহসান বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়েই ওই যুবক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিল। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানো হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিমটেংরি বাবুপাড়া এলাকার এক নারী (৩৫)। জ্বর ও গলাব্যথা নিয়ে গতকাল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এদিনই তিনি মারা যান।
- বিষয় :
- করোনা উপসর্গে
- করোনা
- করোনার প্রাদুর্ভাব