ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশি গবেষকদের সাফল্য

করোনার জীবনরহস্য উন্মোচন

করোনার জীবনরহস্য উন্মোচন
×

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের জিনম সিকোয়েন্স (জীবনরহস্য) উন্মোচন করেছে শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশন। জিনোম সিকোয়েন্স তথ্যটি স্বীকৃতির জন্য গতকাল মঙ্গলবার জার্মানির সংস্থা গ্লোবাল ইনিসিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটায় (জিআইএসএইড) জমা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভাইরাসটির জীবনকাল, গতি-বিধি, আক্রমণের ধরন ইত্যাদি জানা সহজ হবে। জিআইএসএইডের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, গতকাল শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) নির্বাহী পরিচালক ড. সমীর কুমার সাহার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সিকোয়েন্সটি জমা দিয়েছেন সেঁজুতি সাহা। প্রতিষ্ঠানটির অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা ড. সমীর সাহার মেয়ে। এই গবেষণায় তার সঙ্গী ছিলেন রলি মালাকার, সাইফুল ইসলাম সজীব, হাসানুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, শাহিদুল ইসলাম, জাবেদ বি আহমেদ ও মাকসুদ ইসলাম। গত ১৮ এপ্রিল এই গবেষণা দলটি ২২ বছর বয়সী এক নারীর কাছ থেকে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে।
জানতে চাইলে সিএইচআরএফের নির্বাহী পরিচালক ড. সমীর কুমার সাহা সমকালকে বলেন, করোনাভাইরাসের জিনম সিকোয়েন্স বাংলাদেশেও উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো এ ধরনের গবেষণার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। কারণ এ ধরনের ভাইরাসের জিনম সিকোয়েন্সিং বেশ জটিল। কিন্তু তাদের গবেষক দল এটি খুব সহজভাবেই করেছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এই ধরন রাশিয়া ও সৌদি আরবেও দেখা গেছে। আরও ৫০ থেকে ১০০টি সিকোয়েন্স করলে বোঝা যাবে আমাদের দেশে কোন স্ট্রেইন (ধরন) সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এবং সেটা কতটা মারাত্মক। এর ফলে বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ, বিস্তার, আচরণ এবং এর অভিযোজনের ধরনগুলোও জানা যাবে। একই সঙ্গে জিনম সিকোয়েন্সিংয়ের ফলে ভবিষ্যতে এই ভাইরাস প্রতিরোধে যে ধরনের ভ্যাকসিন আসবে সেগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতটা কার্যকর এবং সেগুলো কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে কিনা তাও সহজে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এই গবেষণাকাজে সহায়তা করার জন্য ড. সমীর সাহা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গেটস ফাউন্ডেশন, চ্যান-জাকারবার্গ বায়ো-হাবকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গবেষষকরা করোনাভাইরাসের জীবন রহস্য উন্মোচন করে তার তথ্য জার্মািনর জিআইএসএইডে জমা দিয়েছে স্বীকৃতির জন্য। সত্যিই বাংলাদেশে করোনার জীবনরহস্য উন্মোচন হয়েছে এবং বাংলাদেশি গবেষকরা তা করতে সক্ষম হয়েছেন, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে জিআইএসএইডের স্বীকৃতির পরেই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের কয়েকটি দেশ, চীন এবং ভারতেও ওইসব দেশের প্রেক্ষাপটে করোনাভাইরাসের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন সেসব দেশের গবেষক। এর আগে বাংলাদেশি গবেষকরা পাট, ছাগল ও মাছের জীবনরহস্য উন্মোচন করে সফলতা দেখিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন

×