ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘৪৪ কোটি টাকার চিকিৎসাযন্ত্র অচল, সেবা বঞ্চিত রোগী’

কাদের অবহেলায় অব্যবহৃত চিকিৎসাযন্ত্র, জানতে চায় মানবাধিকার কমিশন

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি

কাদের অবহেলায় অব্যবহৃত চিকিৎসাযন্ত্র, জানতে চায় মানবাধিকার কমিশন
×
×

মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ- ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪ | ২০:৫৫

মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৪ কোটির টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কাদের অবহেলায় এতদিন অব্যবহৃত ছিলো তা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। একইসঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্রয়কৃত সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

সমকালে গত রোববার ‘৪৪ কোটি টাকার চিকিৎসাযন্ত্র অচল, সেবা বঞ্চিত রোগী’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এমন পদক্ষেপের কথা জানাল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিঠির পর কি ব্যবস্থা নেওয়া হল তা জানিয়ে আগামী ছয় জুনের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক সুস্মিতা পাইকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসা সেবা একটি মৌলিক মানবাধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিতকল্পে বিপুল জনসংখ্যার একটি দরিদ্রপীড়িত দেশে চিকিৎসা খাতে যেখানে সরকারকে প্রতি বছর ব্যাপক পরিমাণ ভর্তুকি প্রদান করতে হয় সেখানে জনগণের ট্যাক্সের অর্থে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম জনসেবায় ব্যবহৃত না হওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন।

বিভিন্ন সময় দেখা যায় যে, হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি থাকলেও সরকারি অর্থ তছরুপ করতে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়, যা চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত জনবল  থাকে না। ফলে এ সব যন্ত্রপাতি পড়ে থাকতে থাকতে একসময় বিকল হয়ে পড়ে। যে প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সরঞ্জাম চালানোর মতো প্রশিক্ষিত জনবল নেই, সে প্রতিষ্ঠানে অযথা যন্ত্রপাতি কিনে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ নষ্ট হয় অন্যদিকে যেখানে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি প্রয়োজন সেখানে মানুষ মৌলিক সেবা হতে বঞ্চিত হয়।

দরিদ্র দেশে সরকারি অর্থায়নে কেনা যন্ত্রপাতি প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দ্বারা সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে অনেক রোগীকে বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হতো না এবং অসহায় মানুষগুলো মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেত। তাই চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয়ে সঠিক সমন্বয় সাধন করে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করে।

আরও পড়ুন

×