ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া হচ্ছে স্মারকলিপি

সমাজে অসহিষ্ণুতা রোধে সরকারের পদক্ষেপ চায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক

সমাজে অসহিষ্ণুতা রোধে সরকারের পদক্ষেপ চায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক
×

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১৯:০৮ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ২১:৪৯

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই সংশোধন ও পরিমার্জনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত সমন্বয় কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের দুই সদস্যের থাকা নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়েছে নেটওয়ার্ক। তারা বলেছে, কারও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে তবে বিদ্বেষ ছড়িয়ে কাউকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলা ঠিক নয়। 

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষী আচরণের বিষয়ে সরকারের নীতির অস্পষ্টতা প্রসঙ্গে’ শীর্ষক স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানোর বিষয়ে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এতে স্মারকলিপি পড়ে শোনান শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনিসহ সদস্যরা। 

তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে, তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ কীভাবে নিশ্চিত করবেন এবং সহিংস জমায়েতের সংঘবদ্ধ হিংস্রতা থেকে ভিন্ন মত বা সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার রক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেবেন।

এনসিটিবির কমিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন ও সমাজবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফাসহ ১০ জনকে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক পোস্টে একজন লিখেন, ‘ধর্মপ্রাণ মানুষের সন্তানরা কী পড়বে, তা ঠিক করবে চিহ্নিত ধর্মবিদ্বেষীরা। এটা শহীদদের রক্তের সঙ্গে সুস্পষ্ট বেইমানি।’  

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী বলেন, ইসলামবিদ্বেষী ট্যাগ দিয়ে কাউকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। আমরা স্বৈরাচারী আমল থেকে বের এসে হয়ে নতুন সমাজ গঠন করছি। এ সময়ে অস্থিরতা, দেখতে চাই না। সেজন্য এ স্মারকলিপি পাঠানো হবে। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফ ফেরদৌস বলেন, যে কোনো বিষয়ে অন্যের অধিকার সংকুচিত না করে যৌক্তিকভাবে বলা উচিত। স্মারকলিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে গীতি আরা নাসরীন বলেন, ‘আমরা মনে করি এটি সবারই কথা। তাই এটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়েছে। যে ঘটনাগুলো ঘটছে এগুলো যে গ্রহণযোগ্য নয়, এ ব্যাপারে আমরা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পরিষ্কার বার্তা চাচ্ছি।’ 

প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দু’এক দিনের মধ্যে পাঠানো হবে। এতে বলা হয়, ‘অভ্যুত্থানের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন ধরনের অসহিষ্ণু, আক্রমণাত্মক ও নৈরাজ্যবাদী জমায়েত আমরা লক্ষ করছি। সেসব জমায়েত থেকে অপছন্দের গোষ্ঠী ও দলের বিরুদ্ধে কেবল হিংসাত্মক কথাবার্তাই বলা হচ্ছে না, ক্ষেত্রবিশেষে সেসব মানুষের ওপর হামলাও চালানো হচ্ছে। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘবদ্ধ হিংস্রতায় নিহত হয়েছেন তিনজন। অপরাধীদের ধরতে গিয়ে একজন সেনা কর্মকর্তা হামলায় নিহত হয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে ভিন্ন জাতিসত্তার মানুষকে। মাজার, মন্দির, শিল্প- স্থাপনা ভাংচুর থেকে শুরু করে বাউল ও আহমেদিয়াদের ওপরও আক্রমণ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধের অভাব তীব্রতর হবে এবং সংকট উত্তরণে সরকারকে আরও বেগ পেতে হবে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, সামিনা লুৎফা, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কাজলী সেহরীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×