ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেওয়া ও সুশাসনের অভাবে করোনা সঙ্কট প্রকট: টিআইবি

যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেওয়া ও সুশাসনের অভাবে করোনা সঙ্কট প্রকট: টিআইবি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০ | ০৯:৩৯ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ | ১০:০৩

যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেওয়া, সক্ষমতা ও সুশাসনের অভাবে করোনা সঙ্কট প্রকট হয়েছে। ‘করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই কথা বলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। করোনা মোকাবেলার সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছে।স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নেই।  

করোনাভাইরাস সংক্রমণের শততম দিনে সোমবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। এতে করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের প্রমুখ। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষক মনজুর-ই-খোদা ও মো. জুলকারনাইন। সঞ্চালনা করেন টিআইবির পরিচালক শেখ মঞ্জুর-ই-আলম। 

প্রতিবেদনে শুরুতে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় নানা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি স্থগিত করাসহ সরকারের ইতিবাচক নানা পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- দুর্নীতির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া, এক লাখ তিন হাজার ১১৭ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনার ঘোষণা, স্বাস্থাকর্মীদের জন্য বীমা, অতি দরিদ্র ৫০ লাখ পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা প্রদান, দুই লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল বেশি সংগ্রহ করা, দ্রব্যমূল্য অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল রাখা এবং জনবল সঙ্কট নিরসনে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ। 

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্রমণ শুরু হওয়ার দেড় মাস পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি অকার্যকর। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল’ গঠনের বিধান থাকলেও তা গঠিত হয়নি।

গবেষণার জন্য ৩৮টি জেলার ৪৭টি হাসপাতালের তথ্য নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রতিবেদনে তথ্যানুযায়ী, পরীক্ষাগারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অধিকাংশই ঢাকা কেন্দ্রিক। ৬০টি পরীক্ষাগারের ২৭টি রাজধানীতে। সিলেট ও রংপুর বিভাগে দু’টি করে এবং বরিশাল বিভাগে একটি পরীক্ষাগার রয়েছে। মাত্র ২১টি জেলায় পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। 

টিআইবির প্রতিবেদন বলছে, আইসিইউ আছে ৪৩২টি। ৪৭টি জেলায় আইসিইউ সুবিধা নেই। সারাদেশে ভেন্টিলেটরের সংখ্যা এক হাজার ২৬৭টি। এরমধ্যে মাত্র ১৯০টি করোনার চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। মাত্র ২১টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। 

কেনাকাটায় ব্যাপক দুর্নীতি হচ্ছে বলে তথ্য এসেছে টিআইবির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, পাঁচ থেকে ১০ গুণ বাড়তি মূল্যে মানহীন সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় করছে একটি চক্র। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসকে অতিমারী হিসেবে ঘোষণার প্রায় দুইমাস পর সকল দেশের ফ্লাইট বন্ধ করা হয়। সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ায় ২১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৭৪৩ জন যাত্রীর আগমন ঘটে। তাদের শুধুমাত্র শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়। ফলে করোনাভাইরাস আক্রান্তকে কার্যকরভাবে পৃথক করা সম্ভব হয়নি।  দেশের বিভিন্ন স্থল, সমূদ্র ও বিমানবন্দরে সাতটি থার্মাল আর্চওয়ে স্ক্যানারের মধ্যে মাত্র একটি সচল ছিল। 

করোনা সঙ্কট মোকাবেলায় টিআইবি ১৫ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পরীক্ষা সুবিধা বাড়ানো, জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করা, সম্মুখ সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ, সকল হাসপাতালে করোনার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অতিদরিদ্রদের নগদ সহায়তা, ত্রাণ ভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে অবাধ তথ্যপ্রবাহ, দুর্নীতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

আরও পড়ুন

×