ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ফেলানী হত্যার ১৪ বছর

বিচারের আশায় আজও পথ চেয়ে পরিবার

বিচারের আশায়  আজও পথ চেয়ে পরিবার
×

প্রতীকী ছবি

 নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৫ | ০১:৫১

সীমান্তে ফেলানী হত্যার ১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তার। ফেলানী সেদিন বাবার সঙ্গে দেশে ফিরছিল। ৯৪৭ নম্বর আন্তর্জাতিক ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশ দিয়ে মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তাকে গুলি করে হত্যা করে। তবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও পায়নি ফেলানীর পরিবার। 

ফেলানীর বাড়ি নাগেশ্বরীর রামখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ রামখানা কলোনিটারী গ্রামে। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা ফেলানীর কবর পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত। কথা হয় তার বাবা নূরুল ইসলাম ও মা জাহানারার সঙ্গে। তারা বলেন, ১৪ বছরেও সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারিনি। মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে মানবাধিকার সংস্থাসহ অনেকের কাছে গিয়েছি; কিন্তু আজও কাঙ্ক্ষিত বিচার পেলাম না।
২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট কোচবিহার জেলার বিএসএফের ১৮১ সদরদপ্তরের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস আদালতে ফেলানী হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়। ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় হয়। এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে দেশটির সরকারকে ন্যায়বিচারের আশায় চিঠি দেন। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনঃবিচার কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা একাধিকবার স্থগিত হয়। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির দিন ধার্য হলেও তা আজও হয়নি।

ফেলানী হত্যা মামলাসংক্রান্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য মানবাধিকার কর্মী আব্রাহাম লিংকন বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। বিচার পেলে মানবাধিকার সুরক্ষার পথ সুগম হতো। 
কয়েক বছর থেকে ৭ জানুয়ারিকে ফেলানী দিবস ঘোষণা, হত্যার বিচার, ফেলানীর পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ঢাকা উত্তর সিটির বারিধারা পার্ক রোডের নাম ফেলানী সরণি রাখার দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছে ঢাকার নাগরিক পরিষদ। সংগঠনটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন জানান, ৭ জানুয়ারি ফেলানী দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে ২০১৫ সালে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সেই উদ্যোগের অপেক্ষায়।

আরও পড়ুন

×