ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িগঙ্গা সেতুর 'আল্ট্রা সাউন্ড' ও 'এক্সরে' লাগবে
ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজধানীর পোস্তগোলার বুড়িগঙ্গা সেতুর মাধ্যমে। সোমবার উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়ের ধাক্কায় সেতুটির গার্ডারের একটি অংশ ভেঙে গেছে। এতে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় মঙ্গলবার সেতুটি হেঁটে পার হন মানুষ (ইনসেটে)। ১৯৮৮ সালে চীনের অর্থ সহায়তায় নির্মিত সেতুটির পণ্যবাহী যান চলাচলের উপযোগী করতে ভারী মেরামত প্রয়োজন হবে - মামুনুর রশীদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২০ | ০৯:৫২ | আপডেট: ০১ জুলাই ২০২০ | ১২:০৭
উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু মেরামত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সেতুটির কতটা ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে আল্ট্রা সাউন্ড, এক্সরে মেশিন দিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা করতে হবে।
অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা 'আল্ট্রা সাউন্ড, এক্সরে' মেশিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বুধবার তা পোস্তাগোলায় পৌঁছায়নি। মেরামতের পর বৃহস্পতিবার মেশিনগুলো সেখানে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রকৌশলী (ঢাকা অঞ্চল) সবুজ উদ্দিন খান সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ভৈরব, মেঘনা সেতুসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও জনবল আনা হচ্ছে। এলেই মেরামত কাজ শুরু হবে।
কোটি কোটি দামের 'আল্ট্রা সাউন্ড, এক্সরে মেশিন' অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার বিষয়ে সওজের সেতু রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, এসব যন্ত্রপাতি কালেভদ্রে প্রয়োজন হয়। আবার প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণও হয় না। এ কারণেই ত্রুটি দেখা দেয়।
সোমবার 'ময়ূর-২' নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় 'মর্নিং বার্ড' নামে অপর একটি লঞ্চ বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায়। নিমিজ্জত লঞ্চকে উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসার পথে উদ্ধারকারী জাহাজ 'প্রত্যয়'র ক্রেনের ধাক্কায় সেতুর পূর্বপাশের দু'টি গার্ডারে ফাটল দেখা দেয়। প্রথমে ঘটনা সামান্য মনে হলেও পরে সওজ জানায় আঘাত গুরুতর। সেতুতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে ২৬ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাতে যাত্রাবাহী পরিবহনের জন্য সেতুটি সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হয়।
বুধবার সওজের বিশেষজ্ঞ দল সেতু পরিদর্শন করেন। নিচ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দেখে স্থায়ী মেরামতের উপায় নির্ধারণের কথা ছিল তাদের। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় বিশেষজ্ঞ দল নিচে নামতে না পেরে ফিরে যায়।
সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৮৮ সালে চীনের অর্থ সহায়তায় নির্মিত সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সহায়তা চেয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। নতুন মেঘনা, গোমতী সেতু নির্মাণ ও পুরনো সেতুর পুনর্বাসনের কাজ করা জাপানি প্রতিষ্ঠান ওবায়েশি কর্পোরেশনের সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না করোনার কারণে। দেশীয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো ওবায়েশির সঙ্গে কাজ করছে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
সবুজ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডার ও আশপাশের অংশ লোহার জাল দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গার্ডারের উত্তর দক্ষিণে ২০০ মিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সেতুর মেরামত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পণ্যবাহী যান চলবে না।
তিনি ধারণা দেন, মাসখানেক সময় লেগে যেতে পারে ব্রিজের মেরামতে। এসময়ে বাবুবাজার সেতু হয়ে চলবে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরিসহ সব ধরনের পণ্যবাহী যান।