ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শত বাধা পেরিয়ে

থুতনির সাহায্যে লিখেই জিপিএ ৫ লিতুন জিরার

থুতনির সাহায্যে লিখেই  জিপিএ ৫ লিতুন জিরার
×

হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেওয়া লিতুন জিরা, আশানুরূপ ফলাফল হয়নি মারিয়া আক্তারের

পটুয়াখালী ও মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ | ০০:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো বাধা যে ডিঙানো সম্ভব, আবার তা প্রমাণ করল যশোরের মনিরামপুরের লিতুন জিরা। জন্মগতভাবে হাত-পাহীন এ কিশোরী চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। অন্যদিকে পটুয়াখালীর মারিয়া আক্তার বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসেছিল। সে পেয়েছে জিপিএ ৩ দশমিক ৮৩।

চিকিৎসক হতে চায় লিতুন জিরা
মনিরামপুরের লিতুন জিরার জন্মগতভাবেই হাত-পা নেই। কনুইয়ের ওপর থেকে আছে হাতের ছোট দুটি অংশ। শারীরিক এ প্রতিবন্ধকতা লেখাপড়া থেকে দমাতে পারেনি তাকে। ডান হাতের ছোট্ট অংশ আর থুতনির সাহায্যে কলম চেপে ধরে লিখতে শেখে সে। এভাবে লিখেই এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে এ কিশোরী। গতকাল বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের পর লিতুন জিরার বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনন্দের বন্যা বইছে। 
লিতুন জিরা গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বসিত লিতুন জিরা জানায়, লেখাপড়া করে সে চিকিৎসক হতে চায়। ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাতেও সে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। 
উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের কলেজশিক্ষক হাবিবুর রহমান ও গৃহিণী জাহানারা খাতুনের একমাত্র মেয়ে লিতুন জিরা। জাহানারা জানান, পড়ালেখার প্রতি তাঁর মেয়ের প্রবল আগ্রহ। লেখাপড়া শিখিয়ে তাকে মানুষের মতো মানুষ করতে চান তারা। লিতুন জিরা যেন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে ব্যাপারে এ দম্পতি সবার সহযোগিতা চান।

পাস করলেও মন খারাপ মারিয়ার
বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা মারিয়া আক্তার জিপিএ ৩ দশমিক ৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে অদম্য এ শিক্ষার্থী। মারিয়া পটুয়াখালী সদরের বদরপুর শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
গত ১০ এপ্রিল ছিল এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন। সেদিন ছিল বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা। পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার আগে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার বাবা মামুন হাওলাদার।  
গতকাল ফল প্রকাশের পর মারিয়া বলে, ‘বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে চিকিৎসক বানাবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সেদিন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিই। পুরো পরীক্ষা চোখে জল নিয়েই দিয়েছি। কিন্তু যেভাবে পড়েছি, সেভাবে ফল করতে পারিনি। আমার জন্য কষ্ট লাগছে না, বাবার স্বপ্ন সফল হবে না ভেবে কষ্ট হচ্ছে।’ মারিয়ার চাচা অলিউল্লাহ হাওলাদার বলেন, মেয়েটিকে ঢাকায় ভালো কোনো কলেজে ভর্তি করাতে চান তাঁরা।
 

আরও পড়ুন

×