যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৫ | ০১:৫৫ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৫ | ০৯:৫১
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ নিয়ে অহেতুক উদ্বেগ ছড়ানোর দরকার নেই। সরকার যা যা করার সেটা করছে। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত টেকসই বিনিয়োগবিষয়ক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে। এ বিষয়ে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, তখনও অনেকে বলেছিল পোশাক খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করায় সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায়। আজও যদি একসঙ্গে চলি, সব বাধা দূর করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের বস্ত্র খাতে ইতিমধ্যে অনেক টেকসই বিনিয়োগ হয়েছে। যেখানে পানি কম ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। তিনি জানান, শিল্প কারখানাগুলোকে ভূগর্ভস্থ পানি বিনামূল্যে ব্যবহার করা থেকে সরিয়ে আনতে সরকার একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছে।
জ্বালানির মিশ্রণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে রিজওয়ানা বলেন, সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন খাতে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করতে চাই।
সংলাপের উদ্বোধনী বক্তব্যের পর জ্বালানি, পোশাক ও তামাক খাত নিয়ে আলাদা আলাদা তিনটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে পোশাক খাত নিয়ে উপস্থাপনা দেন বেসরকারি রিকভারি গ্রুপের প্রধান রূপান্তর কর্মকর্তা ফাহমি মুহসিন। তামাক খাতের টেকসই বিনিয়োগ নিয়ে উপস্থাপনা দেন ফিলিপ মরিস গ্রুপের এ দেশীয় ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুর রহমান মাহমুদ ও জ্বালানি খাতের টেকসই বিনিয়োগ নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন শেভরন বাংলাদেশের পরিচালক ইমরুল কবির।
ট্যানারিশিল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এখানে যৌথ ব্যর্থতা ছিল। সরকার বিনিয়োগ করেছে, আবার ব্যবসায়ীরাও কিছু চাহিদা দিয়েছিল। এখন নতুনভাবে এই শিল্পের পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে ভালোভাবে আলোচনা হলে কিছু না কিছু ছাড় পাওয়া সম্ভব।