বার্ন ইনস্টিটিউটে ৭২ ঘণ্টার চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত আছে: সায়েদুর রহমান
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫ | ১৯:২১
আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য সত্তর থেকে আশি ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। যে পরিমাণ সরঞ্জাম জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে। পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান।
রাজধানীর উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বার্ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে সিঙ্গাপুর থেকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দুজন নার্স বাংলাদেশে আসবে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ হয়েছে। তারা এলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অগ্নিদগ্ধ যেসব রোগীর দেশে চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাদেরকে প্রয়োজনে সরকারি খরচে বিদেশে নেওয়া হবে।
তিনি জানান, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আইএসপিআর ৩১ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে। কিন্তু সরকার মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে। সিএমএইচএ ১৯ জন। বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জন। এর বাইরে উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তাদের কাছে অগ্নিদগ্ধ দুজনের মরদেহ আছে। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত তারা দিতে পারেননি। মৃত্যুর সংখ্যার বিষয়টি নিরসন হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে ধোঁয়াশা কেটে যাবে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুলের দুজন শিক্ষকও আছেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সব হাসপাতালে মোট ৬৯ জন চিকিৎসাধীন আছে। সিএমএইচএ তিনজন ছাড়া অন্য সব রোগী এখন বার্ন ইউনিটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিনজন ছিল। তাদেরকে বার্ন ইউনিটে আনা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১০ জনের অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, ছয়টি অজ্ঞাত মরদেহ সংরক্ষিত আছে। ইতোমধ্যে চারজন অভিভাবক যোগাযোগ করেছেন। তাদের ডিএনএ রাখা হয়েছে। পরীক্ষা করে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। অন্য কেউ এলে তাদেরও ডিএনএ নমুনা রেখে পরীক্ষা করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
অতিরিক্ত সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ জন্য তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্ভব হলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় সর্বশেষ তথ্য জানানো হবে। সেখান থেকে গণমাধ্যম তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। তাদের হাসপাতালে ভিড় না জমানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি জানান, ‘উত্তরা আধুনিক মেডিকেল থেকে একজনের মৃতদেহ সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে। সেই সংখ্যাটি নিয়ে আমাদের তথ্যের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। আমরা বলেছি ১৫ জন, সিএমএইচে ১৫ জনের মৃতদেহ আছে। যদিও আইএসপিআরের তথ্যে ১৬ জন বলা আছে। তথ্যের পার্থক্যগুলো দূর হতে সময় লাগবে।
এ সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
