ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রজ্ঞাপন জারি

বেতন কাঠামো নির্ধারণে কমিশন গঠন

ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ

বেতন কাঠামো নির্ধারণে কমিশন গঠন
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫ | ০৩:২২ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৫ | ০৩:২৪

জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সময়োপযোগী ও যথোপযুক্ত বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য বেতন কমিশন গঠন করেছে সরকার। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে। গতকাল রোববার অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

কমিশনে তিনজন পূর্ণকালীন এবং ১৯ জন খণ্ডকালীন সদস্য রাখা হয়েছে। কমিশনের প্রথম সভা থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিতে বলেছে অর্থ বিভাগ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। কমিশন প্রয়োজনে খণ্ডকালীন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। 

প্রজ্ঞাপনে কমিশনের কার্যপরিধির বিষয়ে বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি মঞ্জুরিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে কমিশন সুপারিশ প্রণয়ন করবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সময়োপযোগী ও যথোপযুক্ত বেতন-কাঠামো নির্ধারণ; বিশেষায়িত চাকরিধারীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ; বেতন-ভাতার ওপর আরোপযোগ্য আয়কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরাসরি পরিশোধ করার ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো স্থিরীকরণে সুপারিশ করবে। বেতনবহির্ভূত অন্যান্য সুবিধা যেমন– বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, আপ্যায়ন, প্রেষণ, কার্যভার, মহার্ঘ ভাতা, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তিবিনোদনসহ অন্যান্য ভাতা নিরূপণ; মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ের পদ্ধতি নিরূপণে সুপারিশ করবে। যথোপযুক্ত বা সময়োপযোগী পেনশনসহ অবসর সুবিধাদি নির্ধারণ; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের মান মূল্যায়ন করে বেতন-ভাতা কাঠামোয় প্রতিফলন; জরুরি সেবা (টেলিফোন, গাড়ি, মোবাইল ফোন ইত্যাদি) সংক্রান্ত প্রাধিকারগুলো আর্থিক সুবিধায় নগদায়ন এবং রেশন সুবিধা যৌক্তিকীকরণে সুপারিশ করবে। এ ছাড়া, উচ্চতর গ্রেড ও ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্তিতে বেতনক্রম নিরীক্ষাক্রমে কোনো অসংগতি দেখা দিলে তা দূর করার সুপারিশ করবে কমিশন।

কমিশনের পূর্ণকালীন সদস্যরা হলেন– সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান, সাবেক হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মো. মোসলেম উদ্দীন ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম। খণ্ডকালীন সদস্যরা হলেন– সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক আহমেদ আতাউল হাকিম, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, সাবেক সচিব ড. জিশান আরা আরাফুন্নেসা, মেজর জেনারেল (অব.) এ আই এম মোস্তফা রেজা নূর, সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, তহমিনা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগ) ড. মোহাম্মদ সামছুল আলম ভূঁঞা, বুয়েটের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. একেএম মাসুদ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক একে এনামুল হক, সশস্ত্র বাহিনীর একজন প্রতিনিধি (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত), আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জননিরাপত্তা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট, অতিরিক্ত সচিব (প্রবিধি, বাস্তবায়ন, আইন ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান), অতিরিক্ত সচিব (বাস্তবায়ন) অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, সরকারের সচিব বা অতিরিক্ত সচিব।

দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুসারে বেতন-ভাতা পান। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেতন কাঠামো ঘোষণার দাবির বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

গত ১৫ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান বলেন, সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে অবসরে গিয়ে পেনশন ভোগরত কর্মকর্তা-কমর্চারীরাও পাবেন এই সুবিধা। পিয়ন থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পর্যন্ত সবাই এই মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এর পর গত ২৮ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা পাবেন কি পাবেন না, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অনেকেই আশা করছিলেন, জুন মাসে নতুন অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতার বদলে বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

আরও পড়ুন

×