শাহজালাল ফার্টিলাইজারের ইকবাল ও তার স্ত্রীর আরও জমি-ফ্ল্যাট জব্দ
খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৫ | ১৯:২৫
সিলেট শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক হিসাব রক্ষক খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের ৬৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার ৪.১০ শতাংশ জমি ও একটি ফ্ল্যাট আদালতের আদেশে জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে একই মামলায় ইকবালের ১০ কোটি ৫ লাখ টাকার ২৯৯ শতাংশ জমি ও ৪টি ফ্ল্যাট জব্দ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ১১ কোটি ১০ লাখ টাকার ২১টি মিনি বাস ও দুটি মাইক্রোবাস জব্দ রয়েছে।
শনিবার সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) জসিম উদ্দিন খান জানান, শাহজালাল ফার্টিলাইজারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের এপ্রিলে অর্থপাচার আইনে মামলা করে সিআইডি। এতে খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও স্ত্রী হালিমা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। আত্মসাতের অর্থের বিভিন্ন এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনার প্রমাণ পায় পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এসব সম্পদ ক্রোক করেন। মামলার তদন্ত চলছে। এ ছাড়া আত্মসাতের টাকার গন্তব্য এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত তা খোঁজা হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজালাল ফার্টিলাইজারের হিসাব বিভাগে যোগদানের পর খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি সর্বশেষ ওই বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় জাল-জালিয়াতির করে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) শাহজালাল ফার্টিলাইজার সার কারখানা থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন ইকবাল। তার বিরুদ্ধে ৩৮ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা জমি, ফ্ল্যাট ও গাড়ি জব্দ করেছে আদালত। এছাড়া জালিয়াতির ঘটনায় ২৬টি মামলার তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সিআইডি বলছে, ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন ইকবাল। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ১৪ বছরের চাকরি জীবনে তিনি ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হন। এসবের পেছনে স্ত্রীর নামে দুটি নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে ভুয়া বিল ও রশিদ জমা দিয়ে শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্প থেকে ৩৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সালের জুনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তখন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। পরে র্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে ইকবাল দম্পতির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল অর্থপাচার আইনে মামলা করেন সিআইডির এসআই সোহানুর রহমান।
সেই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রশিদ জমা দিয়ে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৫১ টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব ভুয়া বিল ও রশিদ তৈরি করা হয়েছে তার স্ত্রী হালিমা আক্তারের দুটি প্রতিষ্ঠান টিআই ইন্টারন্যাশনাল ও নুসরাত ট্রেডার্সের নামে।
ইকবালের জব্দ হওয়া সম্পদের বর্ণনা
অর্থপাচার মামলায় অভিযুক্ত ইকবালের জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে– রাজধানীর রমনা ও বিমানবন্দ এলাকায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ৪টি ফ্ল্যাট; ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ৭ কোটি ১১ লাখ টাকার ২৯৯.১ শতাংশ জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইকবাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে। এই দম্পতির মালিকানায় থাকা মাইক্রোবাস, কার, পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন টিআই ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করা হয়।
এছাড়া ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে ‘ওয়ান পয়েন্ট ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’ নামে তিনটি চেইন শপ রয়েছে। বর্তমানে এসব সম্পদের তথ্য যাচাই করছে সিআইডি।
- বিষয় :
- সিআইডি
- জমি জব্দ
- ফ্ল্যাট জব্দ
