শেয়ার বাজার
১১ হাজার কোটি টাকার নেগেটিভ ইক্যুইটি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ প্রদানকারী ১০৫ ব্রোকারেজ হাউস ও ৪১ মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের শেয়ার কিনতে মোট ১৬ হাজার ৪০ কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ‘নেগেটিভ ইক্যুইটি’ হয়ে আছে। অর্থাৎ শেয়াদর কমায় মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারী নিজেদের মূলধন শেষ হয়ে উল্টো ঋণের এ পরিমাণও খোয়া গেছে। এ তথ্য গত মে মাস শেষের।
এমন নাজুক পরিস্থিতির পরও মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মার্জিন ঋণ বিধিমালা ব্যাপকভাবে শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা বলেন, মার্জিন ঋণ বিধিমালা এমন কঠোর ধারা যুক্ত করে সংশোধন করেছিল, যা দেখে যে কারোই মনে হয়েছে যে, রাশেদ মাকসুদ কমিশনের ভাবনায় ছিল কেউ যাতে মার্জিন ঋণ দিতে না পারে বা কেউ যাতে নিতে না পারে। আর বর্তমান কমিশনের প্রস্তাব দেখে মনে হচ্ছে আপনার টাকা যাকে খুশি দেন, ফেরত পাবেন কিনা, তা দেখা কমিশনের কাজ না। এই দুই মনোভাবের কোনোটাই ঠিক না।
দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, মাকসুদ কমিশন অংশীজনদের মতামতকে উপেক্ষা করে এমন জটিল করে মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন করেছিল যে এর ব্যবহার করাই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর সংশোধন দরকার ছিল। বর্তমান কমিশন যেভাবে শিথিল করছে, তাও ঠিক হচ্ছে না। কমিশনের মনে রাখা উচিত, ২০১০ সালের শেয়ারবাজারের ধসের পর ছোট-বড় সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস ডুবেছে এই মার্জিন ঋণে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস শেষে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল ঋণ ছিল ৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা এবং স্থগিত সুদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত ১০২ ব্রোকারেজ হাউসের নেগেটিভ ইক্যুইটির পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। যদিও এসব প্রতিষ্ঠান ৯৬ হাজার ৬১২টি মার্জিন অ্যাকাউন্টে মোট ৯ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত তিন ব্রোকারেজ হাউস ৫ হাজার ৭২১ বিনিয়োগকারীকে মোট ৩২ কোটি টাকা মার্জিন ঋণ দিয়েছে, যার ২৫ কোটি টাকা এবং ৪১ মার্চেন্ট ব্যাংক যেখানে ২৯ হাজার ১৯১ বিনিয়োগকারীকে মোট ৬ হাজার ৪৯৪ মার্জিন ঋণ দিয়েছে তার বিপরীতে ৪ হাজার ৯২০ কোটি টাকা নেগেটিভ ইক্যুইটি হয়ে আছে।
গত ১৯ জুলাই বিএসইসি প্রকাশিত মার্জিন ঋণ বিধিমালার সংশোধন প্রস্তাব অনুসারে, মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত না করে ব্রোকারেজ হাউস বা মার্চেন্ট ব্যাংক মার্জিন ঋণ দিতে পারবে, যা বিদ্যমান নিয়মে নিষিদ্ধ। এছাড়া লভ্যাংশের হার যাই হোক, ‘বি’ ক্যাটেগরির শেয়ারকে মার্জিনযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আগের কমিশন যেভাবে মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন করে গেছে, তা ‘ফাংশনাল’ করা প্রায় অসম্ভব। সে তুলনায় বর্তমান কমিশন উদার করতে যাচ্ছে। তবে যতটা উদার করতে চাচ্ছে ততটাও ভালো না। শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েও যদি কোনো শেয়ার ‘বি’ ক্যাটেগরিভুক্ত হয়, ওই শেয়ার মার্জিনযোগ্য করা হলে কেবল কারসাজিকে উৎসাহিত করা হবে।
নতুন সংশোধন উদ্যোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমার ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণের মানদণ্ড পিই রেশিওর বদলে পিবি রেশিও প্রচলন করা নিয়ে। এ বিষয়ে প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘জীবন বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে এ প্রস্তাব হয়তো ঠিক আছে, তবে সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে পিই রেশিও ৩০ রাখাই উচিত বলে মনে করি।
- বিষয় :
- শেয়ারবাজার