ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ আগের চেয়ে আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত এই নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন সম্পর্কিত ২০১৬ সালের নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। ওই নির্দেশনাটি তখনকার তদারকি ব্যবস্থার জন্য উপযোগী ছিল। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক রিস্কবেইজড সুপারভিশন বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালু করেছে। পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কীভাবে পরিচালিত হবে তা বলা হয়েছে এই নির্দেশনায়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্সকে আলাদা করা হয়েছে। এতদিন একজন হেড অব আইসিসি দুই বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন থেকে হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও হেড অব কমপ্লায়েন্সের দায়িত্বে থাকবেন আলাদা ব্যক্তি। তাদের পদমর্যাদা সমান থাকবে। এতে নিরীক্ষায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হেড অব ইন্টারনাল অডিট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন। এতদিন এই দায়িত্বরত ব্যক্তিকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাজ করতে হতো। নতুন নির্দেশনার আলোকে এখন তিনি আরও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন বলে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তা গোপনীয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তদারকি বিভাগে জানাতে হবে। আগের নির্দেশনায় এ বিষয়টি ছিল না।
নির্দেশনা অনুসারে, প্রতিটি ব্যাংকে হটলাইন, ই-মেইল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সিলগালা লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে বেনামি অভিযোগও তদন্ত করা যাবে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত বা হয়রানির মতো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট চালুর নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে জালিয়াতির তদন্ত করে আদালতে ব্যবহারযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- বিষয় :
- ব্যাংক