ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সারাদেশে ৯২ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প

কাজ পাচ্ছেন ৪৬ হাজার দুস্থ নারী

কাজ পাচ্ছেন ৪৬ হাজার দুস্থ নারী
×

আবু হেনা মুহিব

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সারাদেশে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত ৪৫ হাজার ৭৮০ নারী কাজ পাচ্ছেন। দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত, পরিবারের প্রধান ইত্যাদি বিবেচনায় সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। সারা বছর গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার উপযোগী করে রাখতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করবেন তারা। ফলে অসহায় এ নারীদের জীবিকা উন্নয়ন হবে। এ সম্পর্কিত উদ্যোগের আওতায় দুস্থ নারীকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামে উৎপাদিত কৃষি ও অকৃষি বিভিন্ন পণ্য পরিবহন ও বাজারজাত সহজ হবে। এতে গতি আসবে গ্রাম এলাকায় দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নেও। 

এ রকমই একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। শিগগিরই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। চলবে আগামী ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ‘পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে দুই হাজার ৮২ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির সেবাধর্মী হওয়ার ফলে কোনো আর্থিক ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়নি।

প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে একনেক সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, কৃষি উন্নয়ন, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি  ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘লাস্ট-মাইল’ যোগাযোগ নিশ্চিত করার  ক্ষেত্রে  সরকারের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার সঙ্গে মিল রয়েছে প্রকল্পটির। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায়ও এটি বাস্তবায়নের সুপারিশের কথা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) উল্লেখ করা হয়েছে। আইডিয়াল ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দারিদ্র্য বিলোপ, ক্ষুধামুক্তি, টেকসই কৃষি ও শিল্প, উদ্ভাবন অবকাঠামোর সংগতিপূর্ণ।

গত মার্চে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিচালনা ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, সরকারি ক্রয় বিধিমালা নিশ্চিতকরণ, প্রকল্প পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরি ও  অন্যান্য চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে ‘ওভারল্যাপিং’ রোধ করার কথা বলা হয়েছে। 

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করেছে। জানতে চাইলে এই বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান গতকাল সমকালকে বলেন, প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে মজুরি পাবেন প্রকল্পের সুবিধাভোগী নারীরা। কিছু সূচকের ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। যেমন, বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত, পরিবারের প্রধান হওয়া ইত্যাদি বেশ কিছু সূচক বিবেচনায় সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে। 
ডিপিপি থেকে জানা গেছে, ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে এবং পরে ২০০৩ থেকে ২০০৭ মেয়াদে ব্যাপকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের সফলতা দেখে ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্যারোলিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিআইডিএ) সহায়তায় কেয়ার বাংলাদেশের মাধ্যমে সাতটি ইউনিয়নে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১৯৮৩ সালে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। 

পরে  ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এটি সারাদেশে সম্প্রসারিত হয় এবং পরে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হয়। এর সর্বশেষ পর্যায়টি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এলজিইডি বাস্তবায়ন করেছিল। 
সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ গ্রামীণ যোগাযোগ বজায় রাখা, কৃষি ও অকৃষি পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করা, নারীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করা এবং গ্রামীণ জীবনের সার্বিক মান উন্নত করতে এই নতুন প্রকল্পটির প্রস্তাব করেছে। নতুন এই প্রকল্পের অধীনে এলজিইডি দেশের আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলাজুড়ে ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করবে। 
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ৫২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫১৯ কোটি টাকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী বছরগুলোতেও প্রায় সমহারে
বরাদ্দ রাখা হবে।

আরও পড়ুন

×