ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মতবিনিময় সভায় বক্তারা

বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় পাহাড়ে ভূমি দখল চলছে

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে দ্রুত সক্রিয় করার দাবি

বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় পাহাড়ে ভূমি দখল চলছে
×

ছবি: সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:১৩

বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায়ই ভূমি দখল, উচ্ছেদ ও জাতিগত সংঘাত চলছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে দ্রুত সক্রিয় করতে হবে। ভূমি সমস্যার সমাধান ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে জনগণের সমস্যার সমাধান করা যাবে না।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছর: পাহাড়ের ভূমি সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ভূমি কমিশনকে সক্রিয়করণ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

এতে আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভূমি কমিশন গঠন হয়েছে বটে, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের পর্যাপ্ত জনবল, তহবিল ও পরিসম্পদ নেই। খাগড়াছড়ি জেলায় কমিশনের প্রধান কার্যালয় এবং রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে শাখা কার্যালয় স্থাপন হলেও তহবিল, জনবল ও পরিসম্পদের অভাব রয়েছে। বর্তমানে ভূমি কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান এখনও নিযুক্ত করা হয়নি।

জাকির হোসেন বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায়ই ভূমি দখল, উচ্ছেদ এবং জাতিগত সংঘাত ঘটে চলেছে। এর ফলে আদিবাসী জুমাদের জীবন ও জীবিকায় ব্যাপক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির পরিবর্তে বহিরাগতদের বসতি স্থাপন ও জমি ইজারা দেওয়া, সংঘবদ্ধ সাম্প্রদায়িক হামলা এবং একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে; ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে হবে এবং কমিশনে পর্যাপ্ত জনবল, তহবিল ও পরিসম্পদ বরাদ্দ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি সমস্যার সমাধান ছাড়া ওই অঞ্চলে জনগণের সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সুতরাং সমাধান করতে গেলে ভূমি সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক কারণে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ওই অঞ্চলজুড়ে যেন কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি অপতৎপরতা চালাতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে বাঙালিরা প্রথম জমির মালিক হয়, তার আগে তারা ছিল কেবল প্রজা। আজ পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষও একই দুঃখ ভোগ করছে। তারা অযৌক্তিক কিছু চায় না, শুধু নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার চায়। ১৯৭১ সালে রাজা-প্রজার সম্পর্ক ভেঙে তারা সমমর্যাদার নাগরিক হয়ে বাঁচতে চেয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনেক। সরকার যদি তা বিবেচনায় না নেয় তবে নতুন সংকট তৈরি হবে।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, আদিবাসী অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×