তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হতে হবে মানবাধিকার
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫ | ০১:৩৬
বাংলাদেশে প্রস্তাবিত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশের সংস্কারে প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবাধিকার সুরক্ষা। ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা শুধু নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের প্রেক্ষাপটে একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে এটি উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল নাইটিন এসব কথা বলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। আইনটির কাঠামো অবশ্যই সংবিধানসম্মত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তি ও মানদণ্ড এতে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তবে খসড়া প্রণয়নের ধাপ থেকেই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, অধ্যাদেশে কিছু ধারা সংশোধন না করা হলে তা ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে এবং দেশের বাইরে তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত করবে। একই সঙ্গে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর হাতে অধিক ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আর্টিকেল নাইনটিন মনে করে, আইনটি যাতে নাগরিক সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে সহজ করে সেদিকে নজর দিতে হবে, যাতে চূড়ান্ত আইন মানবাধিকার রক্ষা করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সময়োপযোগী হয়।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, অধ্যাদেশে অবশ্যই এমন সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে যা স্বেচ্ছাচারী নজরদারি প্রতিরোধ করবে এবং মৌলিক অধিকারে যে কোনো হস্তক্ষেপকে বাধাগ্রস্ত করবে। অস্পষ্ট পরিভাষা যেমন ‘জনস্বার্থ’ বা ‘কার্যকরী প্রয়োজনীয়তা’ সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা জরুরি, যাতে এগুলো দমন নিপীড়নের হাতিয়ার না হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও স্বচ্ছ হতে হবে। তাদের নিরাপদ কার্যকাল, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা দিতে হবে।
সংগঠনটির মতে, ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রগুলো বিশেষ করে আইন প্রয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিধানগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা জরুরি এবং এসব ক্ষেত্রে বিচারিক বা সংসদীয় তত্ত্বাবধান থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি অধ্যাদেশ যেন সাংবাদিকতা, জনগণের সমালোচনা কিংবা নাগরিক সমাজকে দমনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজ, কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে সবার মতামত প্রতিফলিত হবে এবং তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
সংগঠনটি মনে করে, বাংলাদেশকে এমন একটি তথ্য সুরক্ষা কাঠামো গ্রহণ করতে হবে যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখবে, নাগরিককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
- বিষয় :
- তথ্য ঘাটতি
