পরীক্ষা ছাড়াই ম্যাটসে ১৯৩ শিক্ষার্থী ভর্তি
৮ মাসেও জমা হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন, কমিটিতে পরিবর্তন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২২:২১
রাজধানীর তিনটি বেসরকারি ম্যাটসে (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ১৯৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আট মাসেও জমা হয়নি। অথচ এই প্রতিবেদন ২০ দিনের মধ্যেই দেওয়ার নির্দেশ ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ভর্তি হয়েছে এসব শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
তিন প্রতিষ্ঠানে ‘ভুয়া’ ভর্তি
২০২০–২১ ও ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষে ট্রমা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি, ট্রমা ম্যাটস এবং শ্যামলী ম্যাটসে ১৯৩ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তারা কেউই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেননি। অথচ সরকারি ও বেসরকারি ম্যাটসে ভর্তির জন্য ১০০ নম্বরের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
তদন্তে উঠে এসেছে, অর্থের বিনিময়ে এই ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সাবেক সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে সরাসরি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্ত্রী তানজিনা খানই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। তারা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, কিন্তু বর্তমানে নিয়মিত ক্লাস করছে।
কমিটি গঠন ও স্থগিত তদন্ত
গত ২ ডিসেম্বর ‘দেননি ভর্তি পরীক্ষা, হয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে সমকাল। এর পর ১০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। এ কমিটিতে উপসচিব আফিস আহসানকে প্রধান ও ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সদস্য সচিব করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিচালককেও সদস্য ছিলেন।
২০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ আট মাসেও তা জমা হয়নি। বরং এর মধ্যেই কমিটির দুই সদস্যকে সরিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটির প্রধান উপসচিব মাহবুবা বিলকিস ও সদস্য সচিব রাহেল রহমত উল্লাহ।
সাবেক সদস্য সচিব ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য গত ১০ বছরের ভর্তি তথ্য চাওয়া হলেও মাত্র তিন বছরের তথ্য দেওয়া হয়। সেগুলো যাচাই করেই আমরা ১৯৩ জনের জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত ছিল শেষ পর্যায়ে। অভিযুক্তদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যেই আমাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
যোগাযোগ করা হলে ইমরুল কায়েস বলেন, তদন্তাধীন বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তার স্ত্রী তানজিনা খানও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নতুন কমিটির প্রধান মাহবুবা বিলকিসও প্রতিবেদনের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
- বিষয় :
- মেডিকেল টেকনোলজি