রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
নিয়ম ভেঙে বাবা ভর্তি পরীক্ষার পরিদর্শক, ছেলে হলেন অষ্টম
ফাইল ছবি
মাইনুল ইসলাম রাজু, রাবি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪২ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:১২
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় নিজের ছেলে পরীক্ষার্থী হলেও বিধি লংঘন করে সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বে ছিলেন শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুনিরুল হক। তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর এবং ব্যবহারিক অংশের পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। এমনকি ছেলের ব্যবহারিক পরীক্ষার গ্রুপেও পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক নথি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ভর্তি পরীক্ষার বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ওই পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রের ভবনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। তবে অধ্যাপক মুনিরুল হক তাঁর ছেলের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে জানাননি বলে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অধ্যাপক মুনিরুল হকের ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বহুনির্বাচনীতে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪৭ পেয়ে তিনি ৩ হাজার ২৫৫তম হন। পরে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হন তিনি। ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩১ নম্বরসহ মোট ৭৮ নম্বর পেয়ে নিজ গ্রুপে অষ্টম হন।
ভর্তি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬ জানুয়ারি। ১ হাজার ৫৩৬টি আসনের বিপরীতে এ ইউনিটে আবেদন করেন ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে প্রতিযোগী ছিলেন প্রায় ৮২ জন।
ভর্তি পরীক্ষা নথি ঘেঁটে জানা গেছে, অধ্যাপক মুনিরুল হক শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির ১১ সদস্যের একজন ছিলেন। এছাড়া ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত তিনটি গ্রুপের ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
‘সি’ ইউনিটের চিফ কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা সমকালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষকের সন্তান বা নিকটাত্মীয় পরীক্ষার্থী হলে বিষয়টি লিখিতভাবে কো-অর্ডিনেশন কমিটিকে জানাতে হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবনে ওই শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতেও তিনি থাকতে পারেন না।
অধ্যাপক মুনিরুল হক বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমাদের কাছে এমন কোনো আবেদন দেননি।
তবে নিজের ছেলের ভর্তির সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যাপক মুনিরুল হক সমকালকে বলেন, আমার ছেলের পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এটা জানালে ভালো হতো। তবে না জানালেও ক্ষতি নেই। সেখানে ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমি একজন পরিদর্শক মাত্র। আমার সেখানে নম্বর দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম একটু লঙ্ঘন হয়েছে। তবে খুব বেশি হয়নি। এতে সমস্যা হওয়ার কথা না।
ভর্তি পরীক্ষায় এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী নেতারা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন শিক্ষকের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমরা পোষ্যকোটা বিলুপ্ত করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু এটা তার থেকেও ভয়ংকর। এটা স্পষ্টত একটি প্রতারণা।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়