পলাতক ১৫২ আসামিকে ধরতে নানা উদ্যোগ
.
ওয়াকিল আহমেদ হিরন
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৮ মামলায় ১৫২ পলাতক আসামিকে ধরতে নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ রাজনৈতিক নেতা ও আমলারা আছেন এর মধ্যে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে গুম-খুন-নির্যাতনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ এসেছে ৪৭৭টি। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ২২টি মামলা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। মামলাগুলোয় শেখ হাসিনাসহ আসামি ২৩৬ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৪ জন।
ইতোমধ্যে চারটি মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলাও আছে। অন্য তিনটি হলো– রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা, আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে পোড়ানো এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মামলা। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় ৪৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। চানখাঁরপুলের মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আবু সাইদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে পাঁচজনের। আশুলিয়ার মামলায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য আছে। বিচার শুরু হওয়া চার মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামি ৫৭ জন।
এদিকে শেখ হাসিনাকে আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তদন্ত সংস্থা জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের শুরুতেই বিমানবন্দর, সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় ছবিসহ চিঠি পাঠানো হয়েছে। তার পরও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকেই দেশের বাইরে চলে গেছেন। অন্যরা দেশের মধ্যে পালিয়ে আছেন।
জানতে চাইলে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘পলাতক প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তাদের বিষয়ে রেড নোটিশ জারি করতে সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যে আসামিরা ভারতে পালিয়ে আছেন, তাদের ফিরিয়ে দিতে সরকার চিঠি পাঠিয়েছে।’
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার শুরু
গত ১০ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় অন্য দুই আসামি হলেন– সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তাদের মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী বা ‘অ্যাপ্রুভার’ হয়েছেন। তিন আসামির মধ্যে একমাত্র তিনি কারাগারে আছেন। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এ বাকি দুজনকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার মামলা
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থী শহীদ আনাসসহ ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৪ জুলাই এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।
আশুলিয়ায় ৬ আন্দোলনকারীকে পোড়ানোর মামলা
আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে পোড়ানোর ঘটনায় করা মামলায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে পলাতক আট আসামি। বাকি আটজন কারাগারে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২-এ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যা মামলা
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ আসামি পলাতক। ইতোমধ্যে পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।
- বিষয় :
- পলাতক আসামি
