ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সেই পাখির সন্ধানে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

সেই পাখির সন্ধানে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ
×

ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২২:৫৬

ঢাকা বিমানবন্দর থেকে দুই বছর আগে জব্দ হওয়া আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত ২৫টি বিরল পাখি এখন চোরাকারবারিদের হাতে চলে গেছে। পাখিগুলো উদ্ধারে দেশের বন বিভাগ, জাতীয় চিড়িয়াখানা, কাস্টমস, বিজিবি ও পুলিশ কাজ করছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইন্টারপোল ও সাউথ এশিয়ান ওয়ার্ল্ড লাইভ এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। দেশের সীমান্ত এলাকায় ইতোমধ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

বুধবার সমকালে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বন বিভাগ জানিয়েছে, পাখির সন্ধানে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল ও সাউথ এশিয়ান ওয়ার্ল্ড লাইভ এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনার শুরু ২০২৩ সালে ৩০ আগস্ট। ভুল তথ্য দিয়ে রাজধানীর কাঁটাবনের প্রতিষ্ঠান কাশবি এন্টারপ্রাইজ, সাইপ্রাস থেকে ৩৬টি বিরল প্রজাতির মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হাইচিন, গ্রিন ইউং, রেড ফ্রন্টেড, ব্লু থ্রোটেড, মিলিটারি, স্কার্লেট, রুবালিনা এবং রেড ম্যাকাও পাখি আমাদানির চেষ্টা করে। পরে পাখিগুলো জব্দ করে কাস্টমস ও বন বিভাগ। আমদানিকারক কিশোর মিত্র ওঝাকে আর্থিক জরিমানাসহ তার প্রতিষ্ঠানের সব লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পাখিগুলো হস্তান্তর করা হয় জাতীয় চিড়িয়াখানাকে। সেখানে ১১টি পাখি মারা যায়। বাকি ২৫টি নিয়ে শুরু হয় আইনি জটিলতা। চলতি বছরে ১৬ এপ্রিল কিশোর মিত্র ওঝা কাস্টমস, বন বিভাগ ও চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করে পাখিগুলো তাকে হস্তান্তরের দাবি তুলে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত তাকে পাখি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। বন বিভাগের আপত্তির পরও ২০ জুলাই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কিশোর মিত্র ওঝাকে পাখি বুঝিয়ে দেন। 

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে শুরুতে তৎপর থাকলেও জটিলতা এড়াতে আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তবে নিরুপায় বন বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আপিল করলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাখিগুলো প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তরে হস্তান্তরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন আদালত। কিন্তু তার আগেই পাখিগুলো কিশোর মিত্র ওঝাকে হস্তান্তর করে দেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এখন আমদানিকারক কিশোর মিত্র ওঝারও সন্ধান মিলছে না। তার বর্তমান ঠিকানা নারায়ণগঞ্জ, গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও প্রতিষ্ঠান ঢাকার মিরপুরে গতকাল বুধবার সমকাল চেষ্টা করেও কোনো খোঁজ বের করতে পারেনি। 

বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শারমীন আক্তার জানিয়েছেন, এই পাখিগুলো সরকারের আমানত। পাখি উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইন্টারপোল ও সাউথ এশিয়ান ওয়ার্ল্ড লাইভ এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এবং ঢাকার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ অনুযায়ী পাখিগুলো হস্তান্তর করা হয়েছিল, তবে বন বিভাগের আপিলের পরেও পাখিগুলো কোথায় রয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

আরও পড়ুন

×