ছেলের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রায়হানের বাবা
রায়হান কবির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২০ | ০৯:৪৬ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২০ | ১৩:৪৯
প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরায় মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার রায়হান কবিরের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা বাবা শাহ আলম। তিনি সমকালকে বলেছেন, তার ছেলে নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্যায় করেনি। রায়হানকে দ্রুত মুক্ত করে সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার, মন্ত্রণালয় ও দূতবাসের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলেছে, রায়হান গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে পুরোপুরি কূটনৈতিক ইস্যু। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি দেখছে।
রায়হানের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন। শনিবার বারবার চেষ্টা করেও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার শহীদুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর। আল-জাজিরায় সম্প্রচারিত রায়হানের সাক্ষাৎকারের সমালোচনা চলছে মালয়েশিয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দেশটির নাগরিকরা একজন প্রবাসী শ্রমিকের মুখে নিজ দেশের সরকারের সমালোচনা গ্রহণ করতে পারছে না। আবার প্রবাসী শ্রমিকবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হয়েছে এর মাধ্যমে। দুই দেশের কূটনীতিক সম্পর্ক, মালয়েশিয়ায় থাকা কয়েক লাখ বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ ভেবে হাইকমিশন রায়হান ইস্যুতে ধীরে এগুচ্ছে।
হাইকমিশনের ওই কর্মকর্তার বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে যেসব সুবিধা রায়হানের প্রাপ্য, তা তিনি পাবেন। তাকে কারামুক্ত করে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান সমকালকে জানিয়েছেন, তিনি জানতে পেরেছেন রায়হানকে এখনো পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ আনা হবে তা জানা যাবে সোমবার। রায়হানের আইনজীবী হিসেবে কাজ করবেন মালয়েশিয়ার সুমিতা সানথিনী এবং সেলভারাজা চিন্নিয়া।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের বাসিন্দা রায়হান তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় যান। তার বাবা শাহ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াার এমসিসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর মাস ছয়েক আগে চাকরি শুরু করেন রায়হান। তামিল বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ানের মালিকানাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানে হিসাব রক্ষকের কাজ করতেন। দুই মাস চাকরি করার পর করোনার কারণে জারি করা ‘লকডাউনে’ কাজ হারান রায়হান।
করোনাকালে অভিবাসী শ্রমিকদের জীবন নিয়ে আল জাজিরায় গত ৩ জুলাই সম্প্রচারিত ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ নামে তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান। তিনি করোনা মহামারিতে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা ও তাদের প্রতি মালয়েশিয়া সরকারের বৈষম্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার। ভাইরাসের বিস্তার রোধে শত শত অভিবাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
এ বক্তব্যের জেরে ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হয় রায়হানের। তিনি দেশটিতে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ ব্যক্তিতে পরিণত হন। দুই সপ্তাহ খোঁজ করার পর গত শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে মালয় পুলিশ। এর আগে ৯ জুলাই ভিডিও বার্তায় রায়হান বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। নিপীড়নের কথা তুলে ধরেছেন। সত্য বলা অপরাধ নয়।
ছেলে গ্রেপ্তারের খবরে ভেঙে পড়েছেন রায়হানের মা রাশেদা বেগম। বন্দরের নূরবাগের বাসায় শয্যাশায়ী তিনি। তার বাবা শাহ আলম নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটির বিসিকে চাকরি করেন। তিনি বলেছেন, রায়হান ছোট বেলা থেকেই প্রতিবাদী। দেশে থাকাকালে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। বিদেশ গিয়ে নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছে। এর শাস্তি পাচ্ছে তার ছেলে।
- বিষয় :
- মালয়েশিয়া
- রায়হান কবির