নিউইয়র্কে আখতার-জারার নিরাপত্তায় ছিলেন গানম্যান
ইয়াসির আরাফাত
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা করতে পারে– এমন আশঙ্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতার বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। তাদের জন্য দুই সশস্ত্র দেহরক্ষী (গানম্যান) নিযুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তিন দিনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারার নিরাপত্তায় গানম্যান রাখতে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সংগঠন এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতাকর্মীরা এর খরচ বহন করেছেন। ‘প্রটেক্টর’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে দুই গানম্যান ভাড়া করা হয়।
পুরো সফরে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করেছেন এনসিপির দুই নেতা। হোটেলটির লবিতে সার্বক্ষণিক ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের নেতাকর্মীরা অবস্থান করেছেন। পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে গানম্যান রাখা হয়। তবে জাতিসংঘ সদরদপ্তরসহ রাষ্ট্রীয় সফরের আওতাধীন অনুষ্ঠানে যোগদানকালে গানম্যান নিযুক্ত করা হয়নি।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু জায়গায় যান এনসিপি নেতারা। গত রোববার নিউইয়র্কের অ্যাভিনিউ-৮ এর ৩৮ স্ট্রিটের জর্জ কমফোর্ট অ্যান্ড সন্স ভবনে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের একটি মতবিনিময় সভা হয়। এতে আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা অংশ নেন। সোমবার নিউইয়র্কের হাডসনে স্টর্ম কিং আর্ট সেন্টার পরিদর্শনে যান এনসিপি নেতারা। হোটেলে অবস্থান থেকে শুরু করে এসব অনুষ্ঠানে ও পরিদর্শনকালে গানম্যান রাখা হয়।
গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঢাকা ছাড়েন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা। বুধবার নিউইয়র্ক থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা করেছেন তারা। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে বের হওয়ার সময় এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের শরীরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ডিম ছোড়েন। এ ঘটনার পর থেকেই পুরো সফর নিয়ে নানা নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশের পরামর্শে আখতার হোসেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জেএফকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন থানায় মামলা করেছেন। মামলার বিষয়ে ভিডিও বার্তায় আখতার বলেন, ‘ইউএস পুলিশকে আমরা অবহিত করেছি, যারা ওই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ঘটাচ্ছে, তারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, যারা গত বছর বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়েছে। ইউএনের (জাতিসংঘ) যে রিপোর্ট, সে ব্যাপারে আমরা তাদের অবহিত করেছি। যেখানেই হোক, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমরা আইনগতভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেব। আওয়ামী লীগ তার সন্ত্রাস নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ পাবে না।’
এনসিপি নেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে নিউইয়র্কে অবস্থানরত এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের গ্লোবাল কো-অর্ডিনেটর (অপারেশন্স) তারিক আদনান মুন সমকালকে বলেন, যেদিন সবাই এলেন, প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যরা নিরাপদে বিমানবন্দর ছাড়লেও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি সরকার। তথ্য আদান-প্রদানে স্পষ্ট ঘাটতি ছিল। আমরা এজন্য নেতাদের সঙ্গে থেকেছি যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।
- বিষয় :
- গানম্যান
