তিন স্থানে সংঘাত সংঘর্ষ হামলা অস্ত্রের মহড়া
ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি গ্রামে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে একটি পক্ষ সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার চাটমোহরে ঈদগাহ মাঠের নামকরণ নিয়ে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। এদিকে ঈশ্বরদীতে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অস্ত্রের মহড়া হয়েছে। বগুড়ার ধুনটে জমি নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে পাঁচজনকে। সংশ্লিষ্টি এলাকার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর–
চাটমোহরে সংঘর্ষে আহত ২০
ঈদগাহ মাঠের নামকরণ নিয়ে চাটমোহরের আটলংকা ও বন্যাগাড়ী গ্রামবাসীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। কয়েকবার থানায় ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসায় বসেন দুই গ্রামের প্রধানরা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা গ্রামে মাঠে নামফলক সাঁটানো নিয়ে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে তর্ক হয়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী, থানার ওসি মনজুরুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতদের মধ্যে বন্যাগাড়ী গ্রামের আজিম উদ্দিন, সুরমান আলী, আরমান আলী, আবুল হোসেন, রাশেদ হোসেন, আফজাল প্রামাণিক, সেলিম হোসেন ও সাব্বির হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; অন্যদের আটঘরিয়া ও পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দুই গ্রামবাসীর অস্ত্রের মহড়া
ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের বাঁশেরবাদা ও চরগড়গড়ি গ্রামের দুই যুবক একটি ভ্যানে চেপে আওতাপাড়া হাটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ভ্যান থামিয়ে কালক্ষেপণ করা নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়। তারা একে অন্যের গ্রাম নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আওতাপাড়া হাটে দোকানপাট ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বাঁশেরবাদা গ্রামের পক্ষে সাহাপুর ইউনিয়ন সদস্য মো. সান্টু এবং চরগড়গড়ি গ্রামবাসীর পক্ষে মক্কেল মৃধা নেতৃত্ব দেন। বৃহস্পতিবার বাঁশেরবাদা গ্রামে ও শুক্রবার চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েকশ গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ইউপি মেম্বার মো. সান্টু বলেন, চরগড়গড়ি গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের নাম ধরে বাজে মন্তব্য করে স্লোগান দিয়েছে। এর একটি বিহিত হওয়া দরকার। একই অভিযোগ করেন চরগড়গড়ি গ্রামের মক্কেল মৃধা।
পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম
ধুনটের সুলতানহাটা গ্রামে বৃহস্পতিবার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের পাঁচজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, পৈতৃকসূত্রে পাওয়া পারলক্ষ্মীপুর মৌজার ৪০ শতক জমি শহিদুল ইসলামের পরিবার ভোগদখল করে আসছিল। একই গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে ফারুক হোসেন, ওমর আলী ও সোহেল রানা ওই জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা করেন। গত ১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ধুনট থানায় সালিশ বসে। ফারুক হোসেন জমির কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ তাঁকে জমি দখল করতে নিষেধ করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। এক দিন পর শহিদুল সুলতানহাটা এলাকায় গেলে ফারুক ১০-১২ লোক নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় শহিদুলকে বাঁচাতে স্ত্রী বর্ণা আকতার, ছেলে হাসান আলী, হোসেন আলী ও ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়।
মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন।
- বিষয় :
- মহড়া
