ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের তথ্য

বছরের প্রথম আট মাসে ৩৯০ শিশু ধর্ষণের শিকার

বছরের প্রথম আট মাসে  ৩৯০ শিশু ধর্ষণের শিকার
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের প্রথম আট মাসে ৩৯০ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ জনকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ২৯ জন ছিল প্রতিবন্ধী শিশু। ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ১৫ জনকে খুন করা হয়, আত্মহত্যা করেছে পাঁচজন। 

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কন্যাশিশুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে সহযোগিতা করে এডুকো বাংলাদেশ। প্রতিবেদন তুলে করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের কোঅর্ডিনেটর সৈয়দা আহসানা জামান অ্যানি।

ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের এসব ঘটনা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের প্রথম আট মাসে ২২৪ জন এবং ২০২৩ সালে ৪৯৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এ বছরের প্রথম ৮ মাসে ১৩৪ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল, আর গত বছর একই সময়ে ৩২ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিআইবি) বরাতে প্রতিবেদনে ৮৪টি আলোচিত ধর্ষণ মামলার ভিকটিম ও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বাদী-বিবাদীদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্য তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল এই সময়ে সংঘটিত ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তদের ২০ দশমিক ২৩ শতাংশ মাদকাসক্ত, ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। আর ভুক্তভোগীর ৭২ দশমিক ৬১ শতাংশ শিশু ও ছাত্রী। অনেক ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর আত্মীয় ও পরিচিত। এ ছাড়া অধিকাংশ ভুক্তভোগী অতিদরিদ্র পরিবারের।
এ ছাড়া গত ৮ মাসে অপহরণ ও পাচারের শিকার হয়েছে ৩৪ শিশু। এর মধ্যে অপহরণের শিকার ১৮ শিশুকে উদ্ধার করা গেছে।

গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১০৪ শিশু আত্মহত্যা করেছে। একই সময়ের মধ্যে ৮৩ শিশু খুন হয়েছে। খুনের হিসাব গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। এর মধ্যে ধর্ষণের পর ১৫ জন, যৌতুকের জন্য চারজন, অন্যান্য কারণে পারিবারিক নির্যাতনে ৩১ জন, পূর্বশত্রুতার কারণে ৯ জন ও প্রেমের সম্পর্কের কারণে পাঁচজন খুন হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।
এ ছাড়া বছরের প্রথম আট মাসে ৫৪ শিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। তবে ২০২৩ সালের তুলনায় কম। ২০২৪ সালের একই সময়ে ২৮ জন এবং ২০২৩ সালে ১১৭ শিশু যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। 

সংকট উত্তরণে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের তরফ থেকে ১১ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণ ও নিপীড়ন রোধে সর্বস্তরের জন্য ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুমোদন; শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার সব ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করাসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারীর অগ্রসরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নারীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অপরাজেয় বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানুর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক নিশাত সুলতানা, আইনজীবী ফাহমিদা রিংকী প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×