ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সরকারি চাকরিতে অস্থিরতার মূলে দশম গ্রেড

সরকারি চাকরিতে অস্থিরতার মূলে  দশম গ্রেড
×

 দেলওয়ার হোসেন

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৮:০০ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি চাকরিতে বৈষম্য নিরসনের দাবিতে যারা আন্দোলন করছেন, তাদের বেশির ভাগের লক্ষ্য দশম গ্রেড। এটি নন-ক্যাডার সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ। বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের চাকরি শুরু হয় নবম গ্রেড থেকে। 

১৯৯৫ সালে সরকার মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীদের চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করে। কিন্তু অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও সংস্থার একই পদ ও যোগ্যতার কর্মচারীদের এই গ্রেড দেওয়া হয়নি। মূলত এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মীরা আন্দোলন করে আসছেন। এতে কেউ কেউ সফলও হয়েছেন। যেমন– নার্স, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর; সর্বশেষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। 

এখন দশম গ্রেড পেতে আন্দোলন করছেন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও সংস্থার কর্মচারীরা। আবার যারা সরকারি চাকরিপ্রার্থী যেমন বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীরাও এই গ্রেডে চাকরির পরীক্ষা দিতে আন্দোলন করছেন। এই গ্রেড ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত।

সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড আছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এসব গ্রেডে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৮।

ক্যাডার না হলে আশা থাকে দশম গ্রেড
সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেডের মধ্যে ক্যাডারভুক্ত প্রথম শ্রেণি হলো প্রথম-নবম গ্রেড। এতে এখন পদসংখ্যা  ১ লাখ ৯০ হাজার ৯২৮। সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্যাডার সার্ভিসে শূন্য পদের সংখ্যা ৩ হাজার ৪৮৭। এসব পদের জন্য এবার আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ প্রার্থী। 

যারা ক্যাডার পদে উত্তীর্ণ হতে পারেন না, তাদের নন-ক্যাডারে চাকরির সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এ পদের জনবল কাঠামোতে নানা জটিলতা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মুক্তারুল ইসলাম বলেন, দশম গ্রেড পদটি কর্মকর্তা পর্যায়ের। এ পদে সম্মান ও দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য ক্যাডার পদে নিয়োগ না হলে এ পদে নিয়োগের প্রত্যাশা থাকে সবার। 

দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেড দ্বিতীয় শ্রেণির। এতে পদ আছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৭। ১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের আমলে প্রণীত এনাম কমিটির সুপারিশ ও জনবল কাঠামো অনুযায়ী চলছে সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তর। গত ৪২ বছরে কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনবল কাঠামো হালনাগাদ করতে পারেনি সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো কাঠামো দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।  

১৩তম-১৬তম  গ্রেড  তৃতীয় শ্রেণির। এতে কর্মরত ৬ লাখ ২০ হাজার ৯৭২ জন। এর পর ১৭তম-২০তম গ্রেড চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। এ গ্রেডে কর্মরত ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩৮ জন।

একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিভিন্ন গ্রেডে চাকরি
সরকারি চাকরিতে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে উচ্চ ও নিম্ন– উভয় পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কাজের ধরন এক হলেও বেতনের পার্থক্য আছে। যেমন– মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীদের ১৩ ও ১৪ গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়নি। দেশে শিক্ষার হার বাড়লেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অষ্টম শ্রেণি, এসএসসি ও এইচএসসি পাসে চাকরি দিচ্ছে সরকার। এখান থেকেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। 

সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া সমকালকে বলেন, সরকারি দপ্তরের জনবল কাঠামো হালনাগাদ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।দেশে শত শত সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কতজন জনবল থাকবে, তাদের কাজ কী হবে, নিয়োগ-পদোন্নতি কীভাবে হবে– এসব কাজ চূড়ান্ত করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ জন্য স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। স্থায়ী কমিশন গঠন করা হলে এসব সমস্যা সমাধান করা যাবে। 

শুধু মন্ত্রণালয়-বিভাগের কর্মচারীরা পেয়েছেন দশম গ্রেড   
সচিবালয়ে কাজ করা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও বাজেট পরীক্ষকদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদ-নাম পরিবর্তন করে বেতন গ্রেড উন্নীত করা হয়। সচিবালয়ে কর্মরত সাঁটলিপিকারদের পদ-নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা করা হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এই পরিবর্তন আনা হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও সহকারী পদে কর্মরত কর্মচারীদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদটি দশম গ্রেডের। পুলিশের এসআই, নার্স ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরাও পর্যায়ক্রমে ১৩ ও ১৪ গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। একইভাবে মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদেরও উন্নীত করা হয়েছে দশম গ্রেডে। সম্প্রতি আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে।

দশম গ্রেড চাচ্ছেন অধিদপ্তর-দপ্তরের কর্মচারীরা
সচিবালয়ের বাইরের অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও সহকারী পদবিধারীরা তাদের পদ পরিবর্তন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা এবং চাকরি দশম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য আন্দোলন করছেন।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কমিটি এ বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি দিলেও অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অভাবে সংশ্লিষ্টরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন দপ্তর-অধিদপ্তরের কর্মচারীরা। সংক্ষুব্ধরা বলছেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটিও প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তারপরও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।
বাংলাদেশ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও ডাক অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী আবু নাসির খান সমকালকে বলেন, সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪‍৬ জন প্রধান শিক্ষকের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব প্রধান শিক্ষকের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। একই দাবিতে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুজন উচ্চমান সহকারীকে ১৪ গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু অন্য কোনো দপ্তরে এটি কার্যকর হয়নি। তিনি বলেন, ‘একই মানের সচিবালয়ের কর্মচারীরা যে অধিকার পেয়েছে, আমাদেরও সেই অধিকার স্বাভাবিকভাবেই দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু ৩০ বছর ধরে আমরা বঞ্চিত। আমি ২১ বছর ধরে একই পদে চাকরি করছি। এখন শুধু সামাজিক মর্যাদার জন্য এ যৌক্তিক দাবি জানাচ্ছি।’ 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার কাছেও আবেদন জানিয়েছেন এই কর্মচারীরা। গত ২১ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গেও এ বিষয়ে বৈঠক করেছেন কর্মচারী নেতারা। 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘দাবি-দাওয়াগুলো পর্যালোচনা করছি। পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন অধিদপ্তর-দপ্তরের নিয়োগবিধি আলাদা। তাই সহজে এই সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। নিয়োগবিধির সমস্যা দূর করারও চেষ্টা করছি আমরা।’ 

প্রকৌশলীরাও দশম গ্রেড নিয়ে জটিলতায়
প্রকৌশলী পেশায় বিএসসি ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমাধারীদের জটিলতা বেশ পুরোনো। এই সমস্যা নিরসনে অতীতের অনেক সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও সমাধান মেলেনি। উল্টো প্রতিবারই এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে নেমেছে দুই পক্ষ। 

মূলত এইচএসসি সম্পন্ন করে বুয়েট, চুয়েট ও কুয়েটের মতো প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। আর এসএসসি বা এইচএসসি পাস করার পর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রকৌশল বিষয়ে চার বছর বা তিন বছর ছয় মাস মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করেন ডিপ্লোমাধারীরা। জটিলতার শুরুটা হয় চাকরির বাজারে গিয়ে। 

প্রকৌশল পেশায় সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারেন। এরপর চাকরির অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতার ভিত্তিতে নবম গ্রেডে পদোন্নতি হয় তাদের। এ ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ কোটা বা সুবিধাও পান তারা।

আবার ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থীর বিএসসি সম্পন্ন করে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমেও নবম গ্রেডের চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি শেষ করে বিসিএসের মাধ্যমে নবম গ্রেডে অথবা ১১-১৬তম গ্রেডে চাকরির সুযোগ পেলেও দশম গ্রেডে আবেদনের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এই প্রক্রিয়াকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করেই গত কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রশ্ন, দশম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীরাই কেন সুযোগ পাবেন?

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, দশম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় শুধু ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় বৈষম্যের শিকার তারা। আবার নবম গ্রেডেও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা রেখে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে চাকরির বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নামের সঙ্গে প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএসসি শিক্ষার্থীরা।
ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা বলছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমাধারীর চাকরির অনিশ্চয়তা দূর করতেই দশম গ্রেড তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ১৯৭৮ সালে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উপসহকারী প্রকৌশলী পদ সৃষ্টি করে সরকার। এ ছাড়া সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩ শতাংশ পদোন্নতির বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয়। 

পদোন্নতির ব্যাপারে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮১ এবং প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-এর গেজেটের কথা উল্লেখ করছেন ডিপ্লোমাধারীরা। ২০১৩ সালেও একই দাবিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে নেমেছিল এই দুই পক্ষ। সেবারও উল্লেখযোগ্য কোনো সমাধান ছাড়াই আন্দোলন শেষ হয়। তবে এবার এ সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করেছে সরকার। 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক জিএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা যদি যোগ্য হয় তাহলে কেন তাদের দশম গ্রেডে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে না? একজন যদি নবম গ্রেডে চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে, ১৩তম গ্রেডের পরীক্ষা দিতে পারে, তাহলে দশম গ্রেডে কেন পারবে না? 

নিয়োগবিধিতেই জটিলতা 
বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগবিধি আলাদা হওয়ায় চাকরির বিজ্ঞপ্তি দিতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। কাজের ধরন এক হলেও শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গ্রেডে বৈষম্য থেকে যাচ্ছে। 
সম্প্রতি কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদটি ধরা হয়েছে ১৩ গ্রেড, শিক্ষাগত যোগ্যতা বাণিজ্যে স্নাতক। হিসাব সহকারী গ্রেড ১৬, শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাস। আবার হিসাবরক্ষক গ্রেড ১২, বাণিজ্য বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গত ২৬ আগস্টের এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে– ১৪ গ্রেডের স্টোরকিপার পদে চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে স্নাতক ডিগ্রি। আবার ১৪ গ্রেডের মোটর মেকানিক পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে এইচএসসি পাস।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, সরকারের জনবল কাঠামোতে দশম গ্রেডে নানা অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে। বেতন কমিশন এগুলো বিবেচনা করতে পারে। সবার মতামত নিয়ে পদগুলো হালনাগাদ করা দরকার। অনেক পদের কোনো কার্যকারিতা নেই। সেগুলোও হালনাগাদ করা উচিত। 

 

আরও পড়ুন

×